সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন


sabuj

রফিকুল ইসলাম সবুজ:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আর্ন্তাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় ঘোষণার পর পরই সারা দেশে শুরু হয়েছে সহিংস তান্ডব। হত্যা, নির্যাতন, জাতীয় পতাকা পোড়ানো, শহীদ মিনারে হামলা, লুন্ঠন, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ নানা ধরনের নাশকতায় বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, রাষ্ট্রীয় স্থাপনাসহ বহুমাত্রিক ধ্বংযজ্ঞ চালিয়েছে দুর্বত্তরা এবং এখনো এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই সহিংসতার বেশি শিকার হয়েছে এ দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদেরকে হত্যা, নির্যাতন, লুন্ঠন ও ভাঙচুরের পাশাপাশি একের পর এক ধ্বংস করা হচ্ছে তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় তথা মন্দির- ও পূজামন্ডপগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে জানা গেছে, কোনো কোনো স্থানে এসব সহিংসতা ১৯৭১ এর বর্বরতাকেও ছাপিয়ে গেছে; যা একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশে কাম্য হতে পারে না। রাজনৈতিক লেবাসধারী দুর্বৃত্তরা গত নভেম্বর-২০১২-তে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর বিচ্ছন্ন হামলার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের সহিংসতার যে পূর্বাভাষ দিয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি-২০১৩ এর দুপুর থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে, ভয়ংকররূপে। তিনটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও নিরীহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ হাজার হাজার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান ও সুপরিকল্পিত এই নারকীয়তা তান্ডব রুখতে রাষ্ট্রযন্ত্র কেনো ব্যর্থ হলো তা কারোরই বোধগম্য নয়।

বিচারিক আদালতে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হলেও এ রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যানবাহন, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক, তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। সাতক্ষীরায় সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী ও শ্বশুরের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা মামুনকে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের অস্ত্রাঘাতে, পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সরাসরি এসব অপরাধ সংঘটিত করলেও আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল বিষয়টি বেমালুম চেপে গিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দায়ভার সরকারের ওপর সরাসরি চাপিয়ে তাদের মিত্রশক্তিকে রক্ষা ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগ-উৎকন্ঠার বিষয়।

সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় দেশের ৬৪টির মধ্যে ৪২টি জেলায় সংখ্যালঘুরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, গাইবান্ধা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ঠাঁকুরগাও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, গাজীপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, চাঁদপুর, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, শেরপুর, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ফেনী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী। তবে এসব জেলার মধ্যে কয়েকটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষও নিহত, আক্রান্ত ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি দপ্তর এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন- চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৃদ্ধ দয়াল হরি শীল, সিলেট নগরীর জগৎ জ্যোতি তালুকদার, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের সুশীল বিশ্বাস এবং নোয়াখালীর প্রকৌশলী সুমন ভৌমিক। চারজন নিহত হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় সহিংস তান্ডবে সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ; যার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা তিন শতাধিক। এদের মধ্যে বাঁশখালীাতে আহতদের মধ্যে দু’জন এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

সাম্প্রতিক এই একতরফা রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক নির্যাতনে হতাহতের বাইরেও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে সীমাহীন সম্পদ। এর মধ্যে চাপাইনবাবগঞ্জের কানসাটের বিদ্যুৎপ্লান্ট ও বিভিন্ন স্থানে রেললাইন-ব্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সম্পদ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ একত্রিত করলে এর পরিমাণও কম নয়। এর মধ্যে ২৮ ফেব্র“য়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদীনগর টুঙ্গিরপাড় গ্রামের ৬৫টি পরিবারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাঁচটি মন্দির ও আশ্রমে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ছাড়াও আগুনে ভস্মীভুত করা হয় আটটি পরিবারের ৬৫টি ঘর। এ সময় হামলা ও অগ্নিদগ্ধে আহত হন ২০ জন নারী-পুরুষ। এই ইউনিয়নে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত সাত কোটি টাকা।

২৮ ফেব্র“য়ারি থেকে ৩ মার্চ- শুধু এই চারদিনেই ১৯টি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, গাইবান্ধা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ঠাঁকুরগাও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, গাজীপুর, বরিশাল ও দিনাজপুর) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেড় হাজার বাড়িঘর, অর্ধশতাধিক ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শতাধিক দোকানপাট-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার। পরবর্তী সময় দ্বিতীয় দফায় ৪ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ২৩টি জেলায় (চাঁদপুর, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, শেরপুর, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ফেনী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী) সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শতাধিক বসতবাড়ি, অর্ধ শতাধিক দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আরো প্রায় অর্ধশত ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও লুটপাট হয়েছে। আক্রান্ত উপাসনালয়গুলোর অধিকাংশেই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্র“য়ারি-১৯ মার্চ পর্যন্ত তিন সপ্তাহে ৪২টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক হাজার ৭০০ পরিবার ও তাদের দেড় শতাধিক দোকানপাট-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, নির্যাতন, ভাঙচুর, লুটপাট ও বসতবাড়িতে আগুন এবং প্রায় ১০০ ধর্মীয় স্থাপনায় লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে দুর্বৃত্তরা। আক্রান্ত ৩৯টি জেলায় শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১২৫ কোটি টাকা।

১৯৪৭ পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন তথা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর কায়েমী স্বার্থান্বেসী মহলের বারংবার আক্রমণের দায়ভার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের আজ্ঞাবাহী এদেশীয় কিছু সুবিধাভোগীর ওপর চাপিয়ে বিভিন্ন সরকার ও রাজনীতিকরা স্বস্তির ঢেকুর তোলেন। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪২ বছরের এই নিপীড়নের দায়ভার কে নেবে- এটা এখন বড় প্রশ্ন। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন ও শাসনের নামে শোষণের বেড়াজাল ছিন্ন করতে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাঁড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি-বাঙালি-সমতলের আদিবাসী সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম, ৩০ লাখ নারী-পুরুষের বীরোচিত আত্মদান ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই স্বাধীন-সার্বভৌম মাতৃভূমি ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’। অথচ স্বাধীন দেশে বিগত চার দশকে ১৯৯০, ১৯৯২, ২০০১, ২০১২ ও চলতি ২০১৩ সালে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তথা সংখ্যালঘুদের ওপর একতরফা নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটলো।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দেশ যখন গণতন্ত্র, প্রগতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িকতার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, সাম্প্রদায়িকতার কালিমা লেপনের লক্ষ্যে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ‘গণতন্ত্র’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়েছে ও ১৯৭২ এর সংবিধান সম্পূর্ণভাবে পুন:প্রবর্তনের লড়াই দিনদিন জোরালো হচ্ছিল, জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে এবং ১৯৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের কবল থেকে মুক্তির দুর্বার আকাঙ্খা নিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ বীরাঙ্গা মা-বোনের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন ঠিক সে সময়েই ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে ১২টি বৌদ্ধবিহারে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ ও হিন্দু জনগোষ্ঠী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর নারকীয় তান্ডব চালানো হলো।

রামুর বৌদ্ধবিহারে সহিংসতা ঠেকাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তখনও যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনি এবারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রোধে প্রশাসনের ভূমিকাও যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। এর বড় উদাহরণ রাজগঞ্জ। গত ২৩ মার্চ-২০১৩ গ্রীন ক্লাব অব বাংলাদেশ-জিসিবি ও মিডিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট -মেড এর এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে এবারের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতার ঘাটতি না থাকলেও আমলাতন্ত্রের একাংশের গাফিলতি ছিল। ডিজিএফআই, এনএসআই ও এসবি- তিনটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগাম সতর্ক বার্তা দিলেও মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ২০১২ সালের কক্সবাজারের রামুর ঘটনা ও ২০০১ সালে নির্বাচনোত্তর সারা দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হতো তাহলে এবারের সহিংসতা এড়ানো যেতো বলেও ঐ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে তাদের এ দুটি সংগঠনের সুপারিশ ছিল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতকরণ, সংখ্যালঘুসহ সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংসের অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের এবং যতোদ্রুত সম্ভব আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণবাবদ আদায়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমার ব্যবস্থা, নিহত ও আহত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো পুন:স্থাপনে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্রামভিত্তিক সর্বদলীয় সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি গঠন। সরকার এ সুপারিশ গুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

লেখক: নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

ইউএনএসবিডিডটকম,২৫ মার্চ ২০১৩

এই পাতার আরো খবর -


কেশবপুরে স্ত্রীকে হতার পর স্বামীর আত্মহত্যা ||অ্যালিস্টার কুককে সরিয়ে দিয়েছে ইসিবি ||হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় তুলা চাষীরা বেকায়দায় || ||‘সরকারের দুর্নীতিতে কৃষিখাত ধ্বংসের দিকে’ ||ভিখারি থেকে হিরোবনে মনোজ ||অস্ট্রেলিয়ায় ৮ শিশু হত্যাকারীর মা গ্রেপ্তার ||শ্যালা নদীতে এবার স্যানিটেশন পদ্ধতিতে সংগ্রহ হবে তেল ||রাজনীতিবিদ-সেনা কর্মকর্তার সন্তানদের হত্যার হুমকি ||ফাইনালে সান লরেঞ্জোর মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ ||