সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

নদীগুলো খনন করে নদীপথ সচল করবো: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা সবগুলো নদীই খনন করবো। ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছি, কোনো নদী বাদ থাকবে না। সব খনন করে সমস্ত নদীগুলো চালু করবো, নদী পথগুলোও সচল করবো।’

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের কাছে ভাতা হস্তান্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পাঠানোর কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র (বিআইসিসি), চাঁদপুর, পিরোজপুর, লালমনিরহাট ও নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন মতবিনিময় করেন।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং বিআইসিসি’ প্রান্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরজ্জামান আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরজ্জামান আহমেদ কবিতার ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা স্তুতি করে বলেন, ‘ধন্য হোক জন্ম তোমার অন্তর হোক পূর্ণ। ফুলের মতো ফুটছো তুমি ১৭ কোটি মানুষের জন্য।’

তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মাননীয় মন্ত্রী এত চমৎকার করে বক্ততা দিয়ে গেছেন। এরপরে আর বলার কিছু থাকে না।’ তবে তিনি কবিতার ভাষায় যেমন শেষ করেছেন আমিও কবিতার ভাষায় বলছি উল্লেখ করে তিনি একটি ইংরেজি কবিতার লাইন তুলে ধরে বলেন, ‘অন্ধকার ঘন অন্ধকার বনায়ন, দেখতে সুন্দর। কিন্তু আমাকে এই ঘন অন্ধকারের সেই ঘন গভীর জঙ্গল পার হতেই হবে এবং আমার চলার পথ শেষ নেই। মাইলের পরম মাইল আমাকে যেতে হবে। আমাকে ক্লান্ত হলে চলবে না। ঘুমালে চলবে না। আমার অভীষ্ঠ লক্ষ্যে আমাকে পৌঁছাতেই হবে। আর সেই লক্ষ্যটা কি? এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, যে স্বপ্নটা দেখেছিলেন আমার বাবা। তিনি তার জীবনটাকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি নিজের জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সব ত্যাগ করেছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাবার জন্য। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো এটা অত্যন্ত একটা কঠিন কাজ। কিন্তু সেই কাজটিই তিনি করতে চেয়েছিলেন। নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়ে।’

জাতির পিতা বন্ধুর পথ অতিক্রম করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার পদচিহ্ন পড়েছে সমগ্র বাংলাদেশে। চড়াই উৎরাই পার হয়েছেন। বারবার আঘাত এসেছে। মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখেছেন কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যূত হন নাই।’ পিতার কাছ থেকেই সেই শিক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সূচনা বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রান্তে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লালমনিরহাটে আমরা পুরো পরিবর্তন করে দেব। অ্যাভিয়েশন ইউনির্ভাসিটি হলে ওখানকার অবস্থাটাই বদলে যাবে। একসময় আমরা প্লেন তৈরি করবো। কোনো চিন্তা নাই।’

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মতবিনিময়ে চীনের সঙ্গে তিস্তা নদী খননের চুক্তির বিষয়ে জানতে চান।

তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হবে হবে, আমরা সব নদীই খনন করবো। ব্যাপক কর্মসূচি নিচ্ছি। ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ নিয়েছি। কোনো নদী বাদ থাকবে না। সব আমরা খনন করে সমস্ত নদীগুলি চালু করবো, নদী পথগুলো সচল করবো।’ তিস্তা ব্রিজটাও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তৈরি সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত