শুক্রবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

দেশের কোনো মানুষ ঘর ছাড়া থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশের কোনো মানুষ ঘর ছাড়া থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাবার মতো কঠিন কাজ বাস্তবায়নে নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করে কাজ করে গেছেন। মৃত্যুকে সামনে দেখেও তিনি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। জাতির পিতার থেকে পাওয়া সে শিক্ষাকে পুঁজি করেই অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছি।’

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এবং ‘বিকাশ’ এর মাধ্যমে গভর্নমেন্ট টু পারসন পদ্ধতিতে ভাতাভোগীর কাছে টাকা প্রেরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা যখন সমগ্র বাংলাদেশকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তখন তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আমি মানুষের সমর্থন নিয়ে দেশে ফিরে আসি। বাবার মতো দুস্থ মানুষের কষ্ট দেখতে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। মাইলের পর মাইল হেঁটে তাদের কষ্ট দেখেছি। তখন আমরা দলের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে থেকেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠনের পর মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ ও স্বামী পরিত্যাক্তা মানুষদের সহায়তায় কাজ শুরু করি। পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। গৃহহীণ মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার কাজ করি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে। বস্তিবাসীদের উন্নয়নেও আমরা কাজ করেছি।’

দেশের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার দল ও আমি মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করে যেতে চাই।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও গৃহহীনদের সহায়তা করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে ভাতাভোগীদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেক মানুষকে একটি ঠিকানা দেয়া হবে। ঘরে ঘরে আলো পৌঁছে দেয়া হবে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ বছরে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার সঙ্গে জড়িতদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো এ বিশ্বাস আমার আছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির প্রযুক্তির কল্যাণে দেশ এগিয়ে চলেছে। নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেটা ভালোভাবে পড়লেও এই সমাজের কোন শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য কী কী করতে হবে তা জানা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান ও সচিব জয়নাল বারি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩১টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মোট ১২৫টি কর্মসূচি চলছে। তাদের মধ্যে ৩১টি নারী, ৩০টি পুরুষ ও ৬৪টি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে চাঁদপুর, লালমনিরহাট, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার ভাতাপ্রাপ্তরা নিজ নিজ জেলা থেকে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং কোনো প্রকার দুর্ভোগ ও ঝামেলা ছাড়া মোবাইলে টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় করোনা থেকে মুক্ত থাকতে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা ও পরামর্শ দেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত