বুধবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

কংগ্রেস ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনায় নিহত ৪

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মার্কিন ক্যাপিটল হিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে এক নারী পুলিশের গুলিতে আর বাকি তিনজন মারাত্মক আহত হওয়ার পর মারা যান।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৪৭ জন কারফিউ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত নারী হলেন সানদিয়াগোর বাসিন্দা আসলি বাবিট। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মী ছিলেন। দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে ক্যাপিটল ভবনে ঢোকার সময় তিনি নিহত হন।

মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, আসলি বাবিট ছিলেন একজন ট্রাম্প সমর্থক। তার শরীরে গুলি লাগার পর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র বাউসের বলেন, নিহত বাকি তিন জনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। বাকি তিনজন পুরুষ। তারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছিলেন। এছাড়া মেট্রো পুলিশের ১৪ সদস্যও আহত হন।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলার সময় ট্রাম্পের শত শত সমর্থক ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় উল্টে দেয়ার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে বুধবার এ হামলা চালানো হয়।

হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক বলে বিবেচিত ক্যাপিটল দখল করে নিয়েছিল। এতে অধিবেশন স্থগিত করতে বাধ্য হয় কংগ্রেস।

পুলিশ পাহারা দিয়ে আইনপ্রণেতাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকেও পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে পুলিশ।

এরপর ক্যাপিটলকে ট্রাম্প সমর্থকদের দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করে, এতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। হলওয়েগুলো দিয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের ছোটাছুটি ও বিভিন্ন দফতরে গিয়ে খোঁজাখুঁজি ও তাণ্ডবে হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলার এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের নামে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের আগ্রাসী তাণ্ডবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয় অনুমোদন হয়নি। তাণ্ডবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন (ইউএস ক্যাপিটল) পুলিশ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। অবরুদ্ধ পার্লামেন্ট ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনপ্রণেতাদের সরিয়ে নিচ্ছেন। সংঘর্ষের কারণে ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

একপর্যায়ে ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়েন ট্রাম্প সমর্থকরা। তারা ক্যাপিটালের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। ক্যাপিটলের অভ্যন্তরে একজন মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একটি সূত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে যে পরে তিনি মারা গেছেন। এ ছাড়া বেশ কজন ক্যাপিটল পুলিশ অফিসার সামান্য আহত হয়েছেন।

কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালে হোয়াইট হাউজের সামনে র্যালিতে জড়ো হন হাজার হাজার ট্রাম্প সমর্থক। সেই সমাবেশের বক্তব্যে নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই হাল ছাড়ব না, আমরা কখনোই পরাজয় স্বীকার করব না। আমরা জালিয়াতি রুখে দেব।’ এরপই ট্রাম্প সমর্থকরা পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা কর্মকাণ্ড শুরু করে।

বক্তব্যে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সমর্থকদের বলেছেন, নির্বাচন চুরি নিয়ে তাদের বেদনা প্রেসিডেন্ট অনুধাবন করতে পারছেন। তবে শান্তির স্বার্থে তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত।

এদিকে, আইনপ্রণেতারা বাইডেনের জয় অনুমোদনের আগেই তাণ্ডবের কারণে অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

পার্লামেন্ট ভবনের তাণ্ডবকে গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত হিসেবে দেখছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে এক ‘অভূতপূর্ব লাঞ্ছনা’র মধ্যে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাকে বিক্ষোভ নয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত