বুধবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের ধারায় ফিরেছে দেশ :প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে বলেই দেশ উন্নয়নের ধারায় ফিরতে পেরেছে। উন্নয়নের গতিধারা যথেষ্ট সচল হয়েছে। সাধারণ মানুষ, গ্রামের মানুষ এর সুফল পাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রারম্ভিক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন সংক্রান্ত এ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন তিনি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ৫ বছরের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। এর আগে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য সরকারের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। নতুন এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গত জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মেয়াদে কার্যকর থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার যে লক্ষ্য- ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার, সে লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। অথচ এক সময় বাংলাদেশ বললে লোকজন এমন একটা ভাব দেখাত যে, এই বাংলাদেশ যেন সবার কাছে হাত পেতেই চলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ছিল না। হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়েছিল। একের পর এক সামরিক শাসকরা ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতাটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই বন্দি ছিল। যে কারণে উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকেনি।

আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ায় দেশের জনগণের প্রতি পুনরায় কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি। কেননা, তারা আমাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন। তারা পরপর তিনবার আমাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন বলেই আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

নেওয়া হয়েছে; তেমনি ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছি। ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আরও একটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং একশ বছর মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২১ থেকে ২০৪১- এই সময়ের মধ্যে দেশকে কীভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও কয়েকটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকি বা যারাই থাকুক, তারা যদি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে বাংলাদেশকে আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

বৈঠক শেষে সভাস্থলে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় থেকে রক্ষায় একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে দেশের ভেতর বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশে নতুন করে আরও বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। বর্তমানে ১০০টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খরচের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে সাত লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। মোট খরচের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ১২০ কোটি টাকা এবং ব্যক্তি খাত থেকে ৫২ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত মিলে দেশীয় উৎস থেকে ব্যয় মোট ব্যয়ের ৮২ শতাংশ। বাকিটা বিদেশি ঋণ। এক সময় এই অনুপাত একেবারেই বিপরীত ছিল। অর্থাৎ বিদেশি উৎস থেকেই অর্থের জোগান বেশি প্রয়োজন হতো। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কভিড থেকে অর্থনীতির উত্তরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনায়।

ড. শামসুল আলম জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষে এক কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে কর্মসংস্থান ৩২ লাখ ৫০ হাজার এবং দেশে ৮০ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। গড় জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) দাঁড়াবে ৮ শতাংশ হারে। শেষ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশে পৌঁছবে। এতে মূল্যস্ম্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে মোট জিডিপির ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫ সাল নাগাদ কর জিডিপির অনুপাত বর্তমানের ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ করা হবে। রাজস্ব আইন অধিকতর সংস্কার এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত