সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

মানব উন্নয়ন সূচকে ২ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিজয়ের মাসে মানব উন্নয়ন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩৩তম। আগের বছর ছিল ১৩৫তম। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২০’ প্রকাশ করা হয়। সেখানে এ তথ্য উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেভি সুদীপ্ত মুর্খাজ্জী, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড.শামসুল আলম।

প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় ও সম্পদের উত্স, বৈষম্য, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আর্থিক প্রবাহ, যোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য ও জনমিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে মানব উন্নয়ন সূচক তৈরি করে ইউএনডিপি। এসব মানদণ্ডে এবার বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচকে স্কোর দাঁড়িয়েছে ০ দশমিক ৬৩২, যা গত বছর ছিল ০ দশমিক ৬১৪।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ইউএনডিপি প্রতি বছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সার্বিকভাবে মোটাদাগে আমরা ভালো করেছি। তবে এটা নিয়ে কিছু মানুষের সংশয় থাকলেও তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আরও উন্নয়নের খাত রয়েছে। গত ১০-১২ বছর দেশ পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী। তার অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। গত ১২ বছরে তার কৌশলে দেশ সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে। ’

যে দেশ পূর্ণসংখ্যা ১ এর যত কাছাকাছি, সে দেশ মানব উন্নয়ন সূচকে তত উন্নত। ১৯৯০ সাল থেকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে ইউএনডিপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ। ১৯৯০ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরে মানব উন্নয়ন সূচক শতকরা ৬০ দশমিক ৪ ভাগ বেড়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সূচকের মান মধ্যম সারির দেশগুলোর গড় মানের চেয়ে বেশি ছিল।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়, বাংলাদেশ মানব উন্নয়ন সূচকে গত কয়েক বছর ধরে দুই থেকে তিন ধাপ করে এগোচ্ছে। ২০১৬ সালে ১৩৯তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত বছর এক ধাপ এবং তার আগের বছর তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, এবারের মানব উন্নয়ন সূচকে আগের বছরের মতোই শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে নরওয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। এরপর রয়েছে, হংকং, আইসল্যান্ড, জার্মানি, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্ক। আর সবার পেছনে রয়েছে ঘানা, লাইবেরিয়া, গিনি বিসাউ, কঙ্গো ও নাইজার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটান। এ বছর শ্রীলঙ্কার অবস্থান এক ধাপ পিছিয়ে ৭২তম হয়েছে। মালদ্বীপ ১০৪তম থেকে ৯ ধাপ এগিয়ে ৯৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে। ভারত দুই ধাপ পিছিয়ে ১৩১তম ও ভুটান পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১২৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে পাকিস্তান, নেপাল ও আফগানিস্তান।

এদিকে, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ অতিমারিতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও প্রাণহানির পাশাপাশি অতিমারিজনিত সামগ্রিক প্রভাব আরও অনেক বিস্তৃত ও প্রকট। বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, আয় অসমতা বেড়েছে এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে এবং লেখাপড়া থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণে ছাত্রছাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর মানুষের বিরূপ আচরণকে আমলে নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই এরকম একটি অতিমারির আশঙ্কা করছিলেন। এ সমীক্ষাটি আমাদের দেখিয়েছে যে পরিবেশ সম্মত উপায়ে উন্নয়ন পরিচালনা করা অর্থ মানুষ বা প্রকৃতির মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেওয়া নয়, বরং একটি সমন্বিত কৌশল অবলম্বন করা। ’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত