বুধবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের সমূলে উৎপাটন করা হবে’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের বাংলাদেশের মাটি থেকে সমূলে উৎপাটন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের যেভাবে বিচার করা হয়েছে তেমনিভাবে যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে তাদের বিচারও এ দেশের মাটিতে হবেই।’

রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) ও জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমভুক্ত (এনএআরএস) ১২টি গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বিএডিসিসহ অন্যান্য সংস্থাও মানববন্ধনে অংশ নেয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীকে বাংলার মাটিতে পরাজিত করেছি। সেই পাকিস্তানিদের দোসররা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে বাংলার মাটিতে আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতাবিরোধী
শক্তি ও ধর্মান্ধদেরকে বাংলার মাটি থেকে উচ্ছেদ করব, বাংলার মাটি থেকে তাদের মূলোৎপাটন করব। এই বাংলার মাটিতে তাদের কোনো ঠাঁই নেই; থাকতে পারে না। স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশদ্রোহী হিসাবে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবে।’

ড. রাজ্জাক বলেন, ‘আজকে যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর আঘাত করেছে, ভাস্কর্য ভেঙেছ তারা সেটি সুপরিকল্পিতভাবেই করেছে। এই স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি দেশীয়-আন্তর্জাতিক ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ন্যায়-সমতার ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চেয়েছিলেন। ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন ও চেতনাকে চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। এই পরাজিত ধর্মান্ধগোষ্ঠী ১৯৭৫-এর পর থেকে ২১ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যেমন ধ্বংস করা যাবে না তেমনি যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙেছে তাদেরকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো মোকাবেলা করে আবার পরাজিত করব। তাদেরকে আবার আমাদের পায়ের নিচে পড়ে ক্ষমা চাইতে হবে।’

এ সময় কৃষিসচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত