শুক্রবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ধর্মের দোহাই দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা স্বাধীনতার চেতনাকে অবমাননা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারীদের প্রতিহত করতে হবে। আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে রাজাকারের তালিকা প্রণয়ন করে তা প্রকাশ করা হবে।

এ সময় ১৯ মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশেষ মর্যাদায় পালন করার দাবি জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ১৯ মার্চ হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জয়দেবপুরের বীর জনতা। সেই যুদ্ধে চারজন শহীদ হন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে গাজীপুরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ। স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় এ প্রতিরোধ মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ইতিহাসের স্বার্থে ১৯ মার্চের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন।’

বিশ্বের সকল মুসলিমপ্রধান দেশে ভাস্কর্য আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্য আছে। গাজীপুরেও প্রথম প্রতিরোধের ভাস্কর্য ১৯৭২ সাল থেকে আছে। সেসব ভাস্কর্য নিয়ে কখনও কেউ কিছু বলেনি। কিন্তু জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে তারা কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায়।’

বিজয়ের এত বছর পর সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন দুঃখজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা আজ ধর্মের নাম করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে, এরাই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতিসত্তা ও বাঙালির ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাঙালি জাতি এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করে প্রতিহত করবে।’

সভায় ২০২১ সালে ১৯ মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে সংরক্ষিত আসন-৩১৩ এর সংসদ সদস্য শামসুন নাহার, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রীনা পারভীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত