শুক্রবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

হাসিনা-মোদি বৈঠক: বিজয়ের মাস বেশি গুরুত্ব পাবে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে সমুদ্র সীমা ও পানি কূটনীতিসহ একাধিক বিষয়ে দুদেশের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রোববার (১৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমেকর্মীদের বলেন, ‘আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অনেকগুলো ইস্যুতে আলোচনা হবে। একাধিক কুইক ইমপ্যাক্ট প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যতগুলো বড় বড় ইস্যু আছে, সেসব ইস্যু আমরা আগামী বৈঠকে তুলব। পানি সমস্যা, সীমান্তে অনিশ্চয়তাসহ সবগুলো ইস্যুই তুলে ধরব। তবে আমাদের বিজয়ের মাসকে সবচেয়ে বড় করে তুলে ধরব।’

৫৫ বছর পর হলদিয়াবাড়ি দিয়ে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫৫ বছর পর হলদিয়াবাড়ি দিয়ে ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হবে। রেলওয়ে হলদিয়া বাড়ি টু ভারতের চিলাহাটে চলাচল করবে। আগে এক সময় এটা চালু ছিল। মাঝে ৫৫ বছর বন্ধ আছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতিকালে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সোনালি অধ্যায়ে বিরাজ করছে। বাংলাদেশের বড় বড় যতগুলো সমস্যা যেমন স্থল সীমানা, সমুদ্র সীমা, পানি সমস্যা এগুলো আমরা মোটামোটিভাবে প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছি। আমরা পৃথিবীর মধ্যে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছি, যে প্রতিবেশি রাষ্ট্র যুদ্ধ, ঝগড়া-ঝাটি না করে বড় বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশ এবং ভারত অবশ্যই সকলের প্রশংসা পাওয়া উচিত। আমাদের মধ্যে যদি আরও কিছু সমস্যা থাকে, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে পারব।’

কাল ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস। দুজন দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামি দুই মানবতাবাদী রাষ্ট্র আমেরিকা আর ব্রিটেনে বাস করছে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুইটি ঘাতক এখন সশরীরে বিদেশে জীবিত আছে, এটা দুঃখজনক। এদের একজন আমেরিকায়, অন্যজন ব্রিটেনে। এখনো তারা দিব্যি লুকিয়ে আছে। আমাদের পলিসি হচ্ছে, যত ঘাতক, যত অপরাধী আছে, আমরা তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি। কিন্তু ওই সমস্ত দেশ বিভিন্ন ধরনের অজুহাত তুলে এই অপরাধীদের এখনো আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছে না। আমরা আশাবাদী একদিন না একদিন অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের বিজয়, এটা বাংলাদেশের বিজয়, আর সেইসঙ্গে এটা ভারতেরও বিজয়। কারণ ভারতের সহায়তায় আমরা কিন্তু সেই ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় অর্জন করেছি। তারা যদি আমাদের সাহায্য না করতো তাহলে ইতিহাস অন্যরকম হতো। শুধু ১৬ ডিসেম্বর নয়, তারা (ভারত) অনেকদিন ধরে আমাদের সাহায্য করেছে এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কয়েক মাস আগে থেকেই বাংলাদেশের জন্য পৃথিবীর সব রাষ্ট্রনায়কের কাছে চিঠি লিখেছেন। তারপর তিনি শুভেচ্ছা সফরে গিয়েছেন। তিনি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া গিয়েছেন এবং বাংলাদেশে নির্যাতনের তথ্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার যখন ৪ ডিসেম্বর ভারতের ওপর আক্রমণ করল, তখন ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার ওই সময়ের বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার প্রধানকে জানাল যে ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এগুলো আমাদের জন্য বড় পাওয়া। ভারতীয় সৈন্যরা আমাদের মুক্তি সংগ্রামে রক্ত দিয়েছে। সুতরাং আমাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক, ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ভারত আমাদের সবসময়ের বন্ধু, আমাদের বিজয়ে তাদেরও যথেষ্ট অহংকার করার কারণ আছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তৎকালীন ভারত ও ব্রিটিশ সরকারের যে অবদান রয়েছে, তা স্বীকার করতে হবে। এজন্য আমরা ভারতের প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞ।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তবে সম্প্রতিকালেও ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সোনালি অধ্যায়ে বিরাজ করছে। বাংলাদেশের বড় বড় যতগুলো সমস্যা, যেমন- স্থল সীমানা, সমুদ্র সীমা, পানি সমস্যা এগুলো আমরা মোটামুটিভাবে প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর মধ্যে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছি, যে প্রতিবেশি রাষ্ট্র যুদ্ধ, ঝগড়া-ঝাটি না করে বড় বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশ এবং ভারত অবশ্যই সকলের প্রশংসা পাওয়া উচিত। আমাদের মধ্যে যদি আরও কিছু সমস্যা থাকে, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে পারব।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত