শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

‘সুদৃঢ় আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো সমৃদ্ধির দুয়ার উন্মোচন করবে’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়তে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ।’

রোববার (৬ ডিসেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যেকার প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ভুটান-বাংলাদেশ পিটিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুদেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অঙ্গীকার করেন।

অনুষ্ঠানটি গণভবন, বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রান্ত ও ভুটানের মধ্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

কোভিড-১৯ মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী দিনে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব প্রশমন এবং পুননির্মাণ পর্বে আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। করোনা পরবর্তী সময়ে টিকে থাকার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই৷ ভুটান চাইলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা বন্দরসহ সৈয়দপুর বিমান বন্দর ব্যবহার করতে পারে৷’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভুটানের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করার আজকের দিনটি (৬ ডিসেম্বর) ঐতিহাসিক দিন। কেন না একাত্তরের এই দিনে ভুটান আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাই স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে, এই দিনটিকে আমরা ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) করার জন্য বেছে নিয়েছি। শুধু তাই নয় ভুটানই হচ্ছে প্রধম রাষ্ট্র, যার সঙ্গে আমরা প্রথমবারের মতো এই চুক্তি স্বাক্ষর করলাম।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একাত্তরের দুঃসময়ে ভুটান আমাদেরকে যেভাবে সাহস যুগিয়েছে এবং সমর্থন করেছে, সেজন্য তারা সব সময়েই বাংলাদেশের হৃদয়ে থাকবে। দুদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের মধ্যে পানিপথ এবং রেলপথের যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ একাধিক বাণিজ্যিক বন্দর এবং বিমানবন্দর উন্নয়ন করছে, যার দুয়ার ভুটানের জন্য সবসময় খোলা থাকবে।’

এই চুক্তির ফলে দুদেশের ব্যবসায়ীরা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য করতে পারবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করব ভুটান আমাদের টাটকা ফলমূল এবং শাক-শব্জির চাহিদা মেটাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোষাকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করবে।’

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বলেন, ‘বাংলাদেশ ভুটানের ঐতিহাসিক বন্ধু। বিশেষ করে বাংলাদেশ আমার সেকেন্ড হোম। আমরা দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ উভয় উভয়কে সহায়তা করে উন্নতির নতুন দৃষ্টান্ত রাখতে চাই।’

করোনাকালীন সময়েও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত থাকায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে নতুন যে পথচলা শুরু হল, আশা করব এই চুক্তির শতভাগ সাফল্য কাজে লাগানোর জন্য খুব দ্রুত এই চুক্তির সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বাংলাদেশ আগামী ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। এতে বর্তমানে বৈশ্বিক অঙ্গণে প্রাপ্ত বাংলাদেশের কিছু বাণিজ্য সুবিধা কমবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বি-পাক্ষিক অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি। চুক্তিটি সইয়ের ফলে বাংলাদেশ ভুটানের বাজারে ১০০টি পণ্যে এবং ভুটান বাংলাদেশে ৩৪টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে আরও পণ্য দুদেশের তালিকায় সংযুক্ত করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে মোট বাণিজ্য ছিল ১২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ওই অর্থবছরের শূন্য দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে। আর একই সময়ে আমদানি করে ১২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুদেশের বাণিজ্য ৫৭ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। এ সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করে ৭ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময়ে ভুটান থেকে আমদানি হয় ৪৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত