শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

নির্বাচন শেষ, এখন ঐক্যের সময়: বাইডেন

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর মন্ত্রিসভার এখন পর্যন্ত মনোনীত সদস্যদের জাতির সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এ সময় তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, নির্বাচন শেষ। এখন দলীয় চিন্তা মাথা থেকে সরাতে হবে। একজন আরেকজনকে দমানোর প্রয়াস থেকে সরে দাঁড়িয়ে এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটন নগরীতে বসে তাঁদের প্রশাসনের জন্য ইতিমধ্যে মনোনীত ব্যক্তিদের পরিচয় করিয়ে দেন।

বাইডেন তাঁর প্রশাসনের সম্ভাব্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা আমেরিকার ভাবমূর্তিই শুধু পুনরুদ্ধার করবেন, এমন নয়। তাঁরা আগামী প্রজন্মের জন্য আমেরিকার নতুন ভাবমূর্তি বিনির্মাণ করবেন।

বাইডেনের মন্ত্রিসভার মনোনয়নের মধ্য দিয়ে বারাক ওবামা বা বিল ক্লিনটন সময়ের প্রশাসনের ছায়া দেখা যাচ্ছে। মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ সিনেটে শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বাইডেন এখন পর্যন্ত যোগ্য ও চৌকস লোকদেরই পছন্দের তালিকায় নিয়ে এসেছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির উদার ও মধ্যপন্থীদের টানাপোড়েনের মধ্যে প্রশাসন গঠনে ভারসাম্য আনছেন বাইডেন। মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও দক্ষতার বিবেচনায় প্রশাসনের দিক দিয়ে আমেরিকার চেনা আদল ফিরে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের শাসনামলকে ব্যতিক্রমী সময় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু এখন পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় আমেরিকার পরিবর্তন প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। আমেরিকার অভিবাসীদের চার বছর ধরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তাড়া করছিল। কিন্তু তা অনেকটাই প্রশমিত হতে দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয়ের কথা এখনো প্রকাশ্যে মেনে নেননি। বিজয়ী বাইডেনকে অভিনন্দনও জানাননি। সোমবার মধ্যরাতের পর অবশ্য নির্বাচনে জয়লাভের দাবি নিয়ে কোনো টুইট করেননি ট্রাম্প। শেষ টুইটে তিনি বলেছেন, জালিয়াতির নির্বাচন তিনি কখনো মেনে নেবেন না।

সবশেষ ট্রাম্প খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন। সেখানে তিনি শেয়ারবাজারের রেকর্ড চাঙাভাব ও দ্রুত টিকা আবিষ্কারের জন্য নিজের কৃতিত্ব দাবি করেন।

মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ রেকর্ড পরিমাণে চাঙা হয়ে ওঠে। ঊর্ধ্বমুখী সূচকে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। টিকা নিয়ে সুখবর ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জন্য এমনটি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।

ট্রাম্প তড়িঘড়ি করে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রাম্প হয়তো তাঁর পরাজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু তা হয়নি।

স্টক মার্কেটের চাঙাভাব ও টিকার জন্য প্রশাসনের লোকদের ধন্যবাদ দিয়ে ট্রাম্প দ্রুত সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করেন। এ সময় সাংবাদিকেরা পেছন থেকে ডাকাডাকি করলেও সাড়া দেননি ট্রাম্প ও পেন্স।

চরম নাটকীয়তার পর গত ২৩ নভেম্বর ফেডারেল এজেন্সি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনকে চিঠি দেয়। এই চিঠির পরই সব পাল্টে যায়।

বাইডেনকে হোয়াইট হাউসের দৈনিক প্রেসিডেনশিয়াল ব্রিফিং দেওয়া হবে বলে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে প্রেসিডেন্টকে সমন্বিত গোয়েন্দা ব্রিফিং দেওয়া হয় প্রতিদিন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে এমন ব্রিফিং বাইডেনের আগেই পাওয়ার কথা ছিল।

সোমবার ফেডারেল এজেন্সি বাইডেনের ট্রানজিশন টিমকে চিঠি দেয়। তার এক দিন পর এমন ব্রিফিং বাইডেনকেও দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউস থেকে। হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার পালাবদলে একে আরেক ধাপের অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত