রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

দলীয় ঐক্যের পর নতুন জোটের উদ্যোগ গণফোরামের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও দলের অভ্যন্তরীণ ‘বিভক্তি’ কাটিয়ে উঠেছে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। শুধু তাই নয়, এবারে তারা স্বাধীনতার পক্ষের ছোট-বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট করার পরিকল্পনা করছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন হবে এই জোটের অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির নেতাদের।

গণফোরামের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, তারা নতুন যে জোট গঠন করতে যাচ্ছেন তার নাম রাখা হয়েছে ‘ঐক্যমঞ্চ’। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের জন্যই এই জোটকে উন্মুক্ত রাখতে চান গণফোরাম নেতারা। ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হবে এই মঞ্চের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসতে চান তারা। সেক্ষেত্রে রাজপথের অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল বিএনপি’র সঙ্গেও আলোচনা করবেন তারা। বিএনপি যদি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত ইসলামির সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়তে পারে, তবেই ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেও বিএনপি ও জোটটির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে তাদের। তা না হলে কেবল ‘ঐক্যমঞ্চ’ গঠন করেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে বিস্তৃত পরিসরে কর্মসূচি পালন করবে গণফোরাম।

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় বেশকিছু নেতা আগামী ২৬ ডিসেম্বর পৃথক কাউন্সিলের ঘোষণা দেন। দলের অন্য অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। তার নেতৃত্বাধীন অংশের কাউন্সিল আয়োজনের ঘোষণা ছিল ১২ ডিসেম্বর সামনে রেখে। বিভক্ত দুই অংশই সক্রিয় হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত দুই অংশের মধ্যেকার সম্পর্কের বরফও গলেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুই পক্ষ বৈঠকে বসেছিল। ওই বৈঠকেই দুই পক্ষের দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। আজ শনিবারও (১৪ নভেম্বর) বৈঠক হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা পর্যায়ের নেতারা। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় এদিনের বৈঠকও ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তারা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে দ্বিধাবিভক্ত গণফোরামের একতাবদ্ধ হয়ে ওঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই কেবল বাকি রয়েছে। সেই ঘোষণার পর আগামী জানুয়ারিতে উভয় পক্ষকে নিয়েই দলের কাউন্সিল হবে। আর এর সঙ্গেই এখন আলোচনায় এসেছে গণফোরামের নেতৃত্বে ‘ঐক্যমঞ্চ’ গড়ে তোলার বিষয়টি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণফোরামের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরে একটি প্ল্যাটফরম গঠন করব। এজন্য নেতারা বাম রাজনৈতিক দলগুলোসহ স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ‘ঐক্যমঞ্চ’ গঠন নিয়ে এসব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গণফোরামের অভ্যন্তরীণ জটিলতাগুলো মিটলে এই আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

গণফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু মনে করছেন, তাদের এই ‘ঐক্যমঞ্চ’ দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাসে গণফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই দেশের রাজনীতিতে গণফেরাম নতুন মেরুকরণ করবে। জাতীয় ঐক্যমঞ্চ গঠন হবে। এই মঞ্চে থাকবে স্বাধীনতার পক্ষের ছোট-বড় রাজনৈতিক দলগুলো।

‘ঐক্যমঞ্চ’ কী উদ্দেশ্য-লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চাই। এ উপলক্ষে আগামী বছরজুড়ে আমাদের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি থাকবে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য সারাদেশে জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকার আদায় নিশ্চিত করা। এই দাবি নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

বিএনপির সঙ্গে গঠন করা ‘ঐক্যফ্রন্ট’ থেকে গণফোরাম বেরিয়ে আসবে কি না— সরাসরি এ প্রশ্নের উত্তর না দিলেও মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘স্বাধীনতার পক্ষের আর্দশিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গণফোরামের সুসম্পর্ক থাকবে। তবে যাদের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির যোগসাজশ থাকবে, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকাই স্বাভাবিক।’ দলের মধ্যেকার দুই পক্ষের বিভেদ দূর হওয়ার দিকে জানিয়ে মন্টু বলেন, অভ্যন্তরীণ ‘ঝামেলা’ মিটলেই ‘ঐক্যমঞ্চ’ গঠনের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।

এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। ড. কামালের গণফোরাম ছিল ওই জোটের অন্যতম অংশ। এর সঙ্গে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, আ স ম আব্দুর রব নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য ছিল জোটের অন্যতম সদস্য দল। জোট গঠনের আগে আলোচনায় থাকলেও অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী) বিকল্পধারা ওই জোটে স্থান পায়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে মনোনয়ন পাওয়া বেশিরভাগ প্রার্থীই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আর তেমন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি

Print Friendly, PDF & Email

মতামত