রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রাজিলকে দ্রুত টিকা দিতে চায় ফাইজার

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজারের ব্রাজিলে নিযুক্ত প্রধান কার্লোস মুরিলো বলেছেন, আসছে বছরের প্রথম দিকেই টিকা সরবরাহের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
রয়টার্সের খবরে জানা যায়, ভার্চ্যুয়াল এক অনুষ্ঠানে কার্লোস মুরিলো আরও বলেছেন, ব্রাজিলে যত দ্রুত সম্ভব টিকা সহজলভ্য করতে হবে। এ জন্য তাঁরা ব্রাজিল সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন।
ব্রাজিলে ফাইজারের টিকাটির তৃতীয় ধাপ বা চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা চলছে। এতে ৩ হাজার ১০০ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। টিকাটি প্রস্তুত করতে ফাইজারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে জার্মানির প্রতিষ্ঠান বায়ো এন টেক।
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে ফাইজার জানিয়েছিল, তাদের টিকার বড় আকারের পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখা গেছে। টিকা প্রস্তুতের দৌড়ে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করছে, সে ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে গেছে ফাইজার।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারি রোধে টিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৮ ছাড়িয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ভাইরাসটি ছড়ানোর পর এতে বিশ্বজুড়ে মারা গেছেন ১২ লাখ ৯১ হাজার ৯৩৭ জন।
ফাইজারের টিকাটি নিয়ে আশার বাণী শোনা গেলেও এ টিকাটি সংরক্ষণে বড় ধরনের বাধা রয়েছে। এটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয় বলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা চ্যালেঞ্জিং হবে। অনেক দেশেই টিকা সংরক্ষণের এমন ব্যবস্থা প্রস্তুত নেই।
মুরিলো বলছেন, ফাইজার কর্তৃপক্ষ টিকাটি ভালো অবস্থায় রাখার জন্য একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যাতে শুষ্ক বরফ ব্যবহার করা হয়। এটা যদিও সহজ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে শীতলীকরণ যন্ত্র লাগবে বলে যে ধারণা করা হচ্ছিল তার সমাধান মিলবে।
ফাইজারের টিকাটি তিনটি ভিন্ন দামে বিক্রি হবে। একটি দাম নির্ধারণ করা হবে ধনী দেশগুলোর জন্য, একটি দাম থাকবে ব্রাজিলের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য আরেকটি দাম থাকবে বিশ্বের দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য।
এখন পর্যন্ত অবশ্য ব্রাজিলের ফেডারেল সরকারের প্রথম পছন্দ যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকাটি। ইতিমধ্যে এ টিকাটি পেতে চুক্তিও সই করেছে দেশটির সরকার।

সেখানে চীনা টিকা সিনোভ্যাকের পরীক্ষাও চলছে। টিকা গ্রহণকারীর শরীরে ‘মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া’ দেখা দেওয়ার কয়েক দিন আগে করোনাভ্যাকের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুখবর হচ্ছে, আবার টিকাটির সেখানে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান বলছেন, টিকা পরীক্ষার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত