মঙ্গলবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

‘প্রত্যেকটা বাহিনী বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত হোক’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও ঈমানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা বাহিনী বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো উপযুক্ত হোক, সেই দিকে আমরা লক্ষ্য করি।’

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে বিজিবির এয়ার উইং-এর জন্য কেনা দুটি এমআই-৭১ই হেলিকপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

সীমান্ত অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে বিজিবির কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ৫৩৯কিলোমিটার এলাকায় নতুন ৬৫টি বিওপি নির্মাণের মাধ্যমে ৪০১ দশমিক ৫ কিলোমিটারে সীমান্তে ইতোমধ্যে নজরদারিতে আনা হয়েছে। অবশিষ্ঠ ১৩৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাতেও আরও বিওপি স্থাপন করা হবে।’

স্থল সীমানা চুক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৪ সালে করে যান। কিন্তু আইনও তিনি পাস করে যান। কিন্তু ভারত কখনো করেনি। ৭৫-এর পরে জিয়াউর রহমান এরশাদ বা খালেদা জিয়া; যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা কখনো আমাদের এই সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন অথবা আমাদের সীমান্ত যে আমাদের, এটার ব্যাপারে তারা কখনো কোন উদ্যোগও গ্রহণ করেনি। যাই হোক আমি প্রথমবার যখন আসি তখন থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং পরবর্তীতে ভারতের পার্লামেন্টে সকল দল মিলে আইন পাস করে দিয়েছে এবং আমাদের সীমান্ত এখন আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়েছে। ম্যাপ তৈরি এবং সিগনেচার করা হয়েছে। আমাদের সীমান্তগুলি সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

গত সেপ্টেম্বরে একনেক সভায় আরও ৭৩টি কম্পোজিট বিওপি নির্মাণের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার কথা তুলে ধরেন এবং এতে বিজিবির অপারেশনাল ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সৈনিকের মনোবল বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ করেন তিনি।

বিজিবি এখন অন্যান্য বাহিনীর মতো ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে উন্নীত হয়েছে। আমরা দুটি আধুনিক হেলিকাপ্টার কিনেছি। প্রকৃতপক্ষে হেলিকাপ্টারের কথা আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বলেছিলাম। যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা যেমন পেয়েছি, আমাদের বর্ডার এলাকা বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য দুর্গম এলাকাগুলি সে এলাকাগুলির নিরাপত্তা দেয়া, এটা একান্তভাবে দরকার। সেই কারণেই হেলিকাপ্টার ক্রয় করে দিয়েছি।’

‘আর সব থেকে বড় কথা আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। এই মুজিববর্ষেই বিজিবি তাদের দুটি হেলিকাপ্টার পেল এটা অত্যন্ত গৌঁরবের এবং আনন্দের বলে মনে করি।’

বিজিবিতে এয়ার উইং’র এই যাত্রা বিজিবির কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে বলে আশাবাদ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উক্ত দুটি হেলিকাপ্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে আজ বিজিবিকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসাবে ঘোষণা করেন তিনি।

বিজিবির সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বলেছিলেন, ‘এ বাহিনী দেশের সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে সার্বভৗমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।’’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে এ পর্যন্ত যত কাজ করেছি, তারপরও প্রত্যেকটা সৈনিকের নানারকম সমস্যা ছিল সেটা আমরা দূর করেছি, ছুটি বাড়িয়েছি। বেতন ভাতা বাড়িয়েছি, নতুন পোশাক দিয়েছি। সব কিছুই কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরে আমরা করে দিয়েছি। কাজেই আমরা চাই, আমাদের প্রত্যেকটা বাহিনী বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো উপযুক্ত হোক।’

বিজিবির অব্যাহত উন্নয়ন সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিজিবির এয়ার উইংয়ের দুটি হেলিকপ্টার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ এবং বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিবির মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল উদ্দিন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত