বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিল’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‌‘৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিল। যে জাতীয়-আন্তর্জাতিক কারণে ৩ নভেম্বরে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল, সেই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে এদেশের দেশপ্রেমিক সিপাহী এবং জনগণ ৭ নভেম্বরে জিয়া্উর রহমানকে মুক্ত করে দেশে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতাকে সুসংহত করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের যে পথ, সেই পথের নতুন সূচনা করেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ‌‌‌৭‌ নভেম্বর থেকেই এদে্শে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করবার সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো এবং তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। এই ঐতিহাসিক দিবসটি স্মরণ করবার জন্য আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ আজকে এখানে এসেছিলাম তার মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ এর পূর্বে যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো, জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়েছিলো। আজকে আবার ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের জনগণের অধিকারকে হরণ করে নিয়ে গণতন্ত্রকে ধবংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। সেজন্য আজকে আমরা আজকে শপথ নিয়েছি যে, আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবো, মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং এই গণতন্ত্রের সংগ্রামকে অবশ্যই জয়ী করবো ইনশাল্লাহ।’

জিয়াউর রহমানের কবরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর জিয়াউর রহমানের কবরে একে একে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি, কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জিয়ার সমাধিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান স্বপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনা প্রধানের দায়িত্ব আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দি। এরপর ৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন তিনি। বিএনপি এই দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস এবং জাসদ সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত