সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

নির্বাচনের ফল সমান–সমান হতে পারে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মার্কিন নির্বাচন সব দিক থেকেই জমে উঠেছে। বিশেষত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইলেকটোরাল ভোটের হিসাব বেশ টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি করছে। কোনো খেলার চেয়েই কম নয় এ উত্তেজনা। এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে কে নিশ্চিতভাবে জিততে যাচ্ছেন, তা বলার সুযোগ নেই। এমনকি দুই প্রার্থী সমান ইলেকটোরাল ভোটও পেতে পারেন।

হ্যাঁ, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোয় ভোট গণনা যত এগোচ্ছে বাইডেনের অবস্থান তত ভালো হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবমতে, জো বাইডেন ২৫৩ ও ট্রাম্প ২১৪ ইলেকটোরাল ভোট পাওয়া নিশ্চিত। মুশকিল হলো এর পরের হিসাব নিয়েই। ইলেকটোরাল কলেজের ৫৩৮ ভোটের মধ্যে একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট। কিন্তু জর্জিয়া (১৬), পেনসিলভানিয়া (২০), নেভাদা (৬), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৫) ও অ্যারিজোনায় (১১) যেভাবে ফল পাল্টাচ্ছে, তাতে আগে থেকে কিছু বলবার আর সুযোগ নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এর মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনা ছাড়া আর সব জায়গায় এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্প ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে। শতাংশের হিসাবে এই ব্যবধান ১ দশমিক ৪ শতাংশের মতো। কিন্তু অঙ্গরাজ্যটিতে এখনো সম্ভাব্য মোট ভোটের ৫ শতাংশ গণনার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে জর্জিয়ায় বাইডেন ট্রাম্প থেকে ১ হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সেখানকার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ভোট পুনঃগণনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। নেভাদায় বাইডেন ট্রাম্প থেকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও সেখানে এখনো ৮ শতাংশ ভোটের গণনা বাকি রয়েছে। পেনসিলভানিয়ায় বাইডেন এগিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁর জয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের সম্ভাবনা এখনো মিলিয়ে যায়নি। কারণ, অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন ট্রাম্প থেকে দশমিক ২ শতাংশ বেশি ভোট পেলেও এখনো গণনার বাকি রয়েছে ৪ শতাংশ ভোট। বাকি থাকল অ্যারিজোনা। অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ৪৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ সেখানে এখনো সম্ভাব্য মোট ভেটের ৭ শতাংশই গণনা বাকি।

ফলে নিশ্চত হওয়া ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছিয়ে থাকলেও তিনি নির্বাচনে হেরে গেছেন বলা যাবে না। তাঁর এখনো জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু চাই ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, নেভাদা ও জর্জিয়ার মধ্যে যেকোনো তিনটিতে জয় পাওয়া এবং অতি অবশ্যই পেনসিলভানিয়ায় জয় পাওয়া। বাইডেনের অবশ্য এত হিসাবে যেতে হবে না, জয় পেতে হলে শুধু যদি পেনসিলভানিয়ায় জয় পান, তাহলেই হবে। আর পেনসিলভানিয়া হাতছাড়া হলে তাঁকে ওই চার অঙ্গরাজ্যের মধ্যে যেকোনো দুটিতে জয় পেলেই চলবে।

এখনো ফল ঘোষণা বাকি রয়েছে ছয়টি অঙ্গরাজ্যের। এর মধ্যে আলাস্কায় ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত। ফলে সেখানকার তিনটি ইলেকটোরাল ভোটকে হিসাবে ধরেই বাকি হিসাব করতে হবে।

এ তো গেল জয়–পরাজয়ের অঙ্ক। কিন্তু এর বাইরে টাই হওয়ার অঙ্কও রয়েছে। শুনতে যেমনই লাগুক, দুই প্রার্থীরই ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ২৬৯–এ এসে আটকে যেতে পারে। আর তেমনটি হলে একজন প্রেসিডেন্ট পেতে হলে চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য যেতে হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। সেখানে অনেক জটিল প্রক্রিয়ার পর বাকি ফয়সালা হবে।

দেখা যাক, কোন প্রক্রিয়ায় কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী ছাড়াও এ নির্বাচনের ফল আসতে পারে। বিবিসি অনলাইনের দেওয়া হিসাবমতে, আলাস্কায় জয়ের পাশাপাশি ট্রাম্প যদি নেভাদা, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও অ্যারিজোনায় জয় পান, তবে তাঁর ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬৯–এ। সে ক্ষেত্রে বাইডেনের জন্য বাকি থাকবে শুধু জর্জিয়া, যেখানে রয়েছে ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট। ফলে তাঁর ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যাও ২৬৯–এ এসে থমকে যাবে। আর মার্কিন জনগণকে একজন সুস্পষ্ট বিজয়ী পেতে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ সময়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত