মঙ্গলবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ট্রাম্পকে বাস্তবতা বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, নেভাদা—তিন অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ব্যবধান বাড়াচ্ছেন মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। এগিয়ে চলেছেন বিজয়ের পথে। কিন্তু এখনো নাছোড় ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির।

তবে পরিস্থিতি যে সুবিধার না, সেটা বুঝতে পেরে ট্রাম্পের সঙ্গ ছাড়ছেন ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ। আর এ অবস্থায় বাস্তবতা মানতে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা হচ্ছে।

এর মধ্যে হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য হিল ডট কম’ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার জন্য রাজি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারা এ উদ্যোগ নিতে পারেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পকন্যা ইভাঙ্কা, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলকে এ কাজের উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল এখনো ঝুলে আছে। পুনর্গণনার আবেদন জানানো হয়েছে জর্জিয়ায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো সুযোগ আছে বলে তাঁর দলের লোকজনও মনে করছেন না। ফলাফল ঘোষণা করা না হলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন নিজের বিজয় ঘোষণা করতে পারছেন না।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত নয়টায় জো বাইডেন বক্তৃতা দেবেন বলে জানানো হয়েছিল। ফলাফল নিশ্চিত না হওয়ায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি বক্তৃতা দেননি। ডেলোয়ারা রাজ্যের উইলমিনংটন নগরীর চেইজ সেন্টারে বড় মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চের সামনে উৎসব উৎসব ভাব বিরাজ করছে।

কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটবার্তায় বলেছেন, জো বাইডেন যেন ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিজয়ী ঘোষণা না করেন।

অথচ ৩ নভেম্বর নির্বাচনের রাতেই নিজে বিজয়ী হয়েছেন বলে বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫ নভেম্বর সর্বশেষ জনসমক্ষে বেরিয়ে এসে বক্তৃতা দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ভোট গণনার বিরোধ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে বলেছেন। নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে এখন পর্যন্ত কয়েক শ মামলা হলেও খুব আমলযোগ্য কোনো মামলা হয়েছে বলে কেউ মনে করছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কখনো হয়নি। এমন ঝুলে থাকা অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন কাটাতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে লোকজনের প্রস্থান শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন কৃষ্ণাঙ্গ উপদেষ্টা জ্যারন স্মিথ গতকাল শুক্রবার বিকেলে জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিলেন জ্যারন স্মিথ। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি প্রকাশ্যে নির্বাচনী ফলাফলের এই দোদুল্যমানতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেন।

জ্যারন স্মিথ এক বিবৃতিতে ‘অবহেলিত আমেরিকার’ পরিবর্তনের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করাকে একটি ভালো সুযোগ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিউইয়র্ক টাইমস ৬ নভেম্বর তাদের এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং সিটিজেন ইউনাইটেড নামের রক্ষণশীল সংগঠনের সাবেক চেয়ারপারসন ডেভিড বসি বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে মামলা দেখভাল করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত