রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

‘ইউরোপ-আমেরিকার মতো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ইউরোপ-আমেরিকায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যে রকম হবে, আমাদের দেশে সে রকম নাও হতে পারে। তাদের এক রকম হবে। আমাদের আরেক রকম। কারণ তাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা সিজনটা শীতকালে। বাংলাদেশ এদিক থেকে ভাগ্যবান। আমাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা সিজন শুরু হয় এপ্রিলে। সেটা থাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ কমপ্লিকেশনসে আমরা পড়বো না। গ্লোবালি উইন্টার সার্চ হবে সেটা বাস্তবতা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও উইন্টারে এক ধরনের প্রস্তুতি হবে। প্রস্তুতি আমাদেরও নিতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) কালের কণ্ঠ ও আইআরডি আয়োজিত কোভিড-১৯ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইইডিসিআর প্রধান বলেন, আমেরিকায় সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় প্রতিবছর। তো এখন যখন ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং কোভিড-১৯ একসঙ্গে হবে তখন একটা জটিলতা তৈরি হবে। এজন্য তারা ভয় পায়। তাপমাত্র শূন্য ডিগ্রির নিচে নামে। ভাইরাসের সারভাইভাল রেট এবং উদ্বেগও বেড়ে যাবে তাদের দেশে। সব কার্যক্রম ইনডোরে চলে যাবে। রেস্টুরেন্টগুলো ইনডোর হবে। বার ও পার্ক সব খোলা থাকবে। ইনডোর থেকে ইনফেকশন ছড়াবে। এগুলো হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার প্রস্তুতি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন কমন কোল্ড সিজন। বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা হয় না। তবে অন্যান্য কমন ভাইরাসগুলো আক্রান্ত হতে থাকে। করোনার আরও চারটা সিজনাল ভাইরাস আছে। সেসঙ্গে আমাদের ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা রোগী শীতকালে বেড়ে যায়ে। সঙ্গে যদি করোনা (কোভিড-১৯ বা সার্চ-২) আক্রান্ত হয়। তখন জটিলতা বাড়বে।

ড. আলমগীর বলেন, প্রস্তুতি মোটামুটি সবার একই রকম। এখন এটা ওভারকাম করার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বলছেন, আমরাও বলছি। গণমাধ্যমও প্রথম থেকে আমাদের প্রচণ্ড সহযোগিতা করছে। কিন্তু কোথাও যেন একটা ঢিলেঢালা ভাব সবার আছে। এটা শুধু বাংলাদেশে না, পৃথিবীর সব দেশেই। আমরা বাংলাদেশের মানুষদের বকাবকি করতে দেখি। যে মাস্ক পরে না। পৃথিবীর সব দেশেই কেউ আর মাস্ক পরতে চাচ্ছে না। কোথাও কোথাও বিশাল বিশাল আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু এখন সময় মানুষকে মোটিভেড করার। এ মোটিভেশনে গণমাধ্যম যেমন আমাদের সার্পোট দিচ্ছে, তেমনি সার্পোট দরকার সামাজিক সংগঠনগুলোর। সামাজিক সংগঠনগুলো হারিয়ে গেছে। কেউ নেই এখন।

তিনি বলেন, আমরা রাতে ফেসবুকে বসে বসে যত গল্প করি। এ গল্পের এক ক্রিয়দাংশ যেন সড়কে দাঁড়িয়ে করি। একটা সংগঠনকে দেখি না সবাই মাস্ক পরে না এটা কমপ্লেইন করছে। মাস্ক দিয়ে সহায়তা করি সেটা কেউ করছে না। আমি বিএমএ কে বলেছি ১০ হাজার মাস্ক নিয়ে সড়কে নামেন। তাহলে আপনাদের দেখাদেখি অনেক মানুষ নামবে। একটা মাস্কের জন্য আপনি রিকশাচালককে জরিমানা করতে পারেন না। জরিমানা কেন করবেন। গণমাধ্যম, লেখক, খেলোয়াড়রা যদি প্রচার করেন।

ড. আলমগীর বলেন, খেলোয়াড়রা যা বলেন তা মানুষ শোনে। তারা যদি মাস্ক নিয়ে কোনো একটা ক্যাম্পেইন করেন। সরকার করবে। এনজিওগুলো তাদের দায়বদ্ধতা থেকেই করবে। কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে আমাদের কারো না কারো করতে হবে। এ কর্মসূচিতে দৃষ্টিনন্দন করে মানুষকে আকর্ষণ করতে হবে। না হলে আমরা রক্ষা পাবো না। সারাবিশ্বের কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। আমি এখন বলি মাস্ক পরে যদি আপনি বাসা থেকে বের হন। হাতধোয়া যদি অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন। সাবান যত পচা হবে ভাইরাস তত দ্রুত মরবে। আর যেটা করতে হবে সেটা হলো সামাজিক দূরত্ব মেনে জনসমাগম এড়িয়ে চলা। এটা কিন্তু সবসময় প্রয়োজন।

আইইডিসিআর প্রধান বলেন, আমরা যে ভ্যাকসিন ভ্যাকসিন করছি। ভ্যাকসিন যদি আসেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নীতিমালা ঠিক করেছে যে, ৫০ শতাংশ কার্যকর এবং নিরাপদ হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভ্যাকসিনকে প্রি কোয়ালফাই করবে। তার মানে ১০০ জনকে ভ্যাকসিন দিলে ৫০ জনে এটা কাজ করবে না। তার মানে তখনও আমাকে মাস্ক পরে, হাত ধুয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। বকাবকি না করে আমাদের সবাইকে উদ্ধুব্ধকরণে নামতে হবে। এ প্রাকটিসগুলো করতে হবে। এ প্রাকটিসগুলো করলে ভ্যাকসিনও লাগে না। করোনা যেন না বাড়ে সেই চেষ্টা সবাই মিলে করি। এজন্য সবার সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

ড. আলমগীর বলেন, যে মহামারি আমরা এখন মোকাবিলা করছি। মহামারির আগের জীবন আর মহামারির পরের জীবন কখনো এক হবে না। এটা আমাদের ধরেই নিতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পৃথিবীর সব দেশের মতোই। আমরা আশঙ্কা করছি, হয়তো এক ধরনের একটা দ্বিতীয় ঢেউ হবে। এখন যেটা হচ্ছে সেটা প্রথম ঢেউয়ের শেষের দিকে। আমরা আশা করেছিলাম হয়তো যেভাবে কমতে শুরু করেছে। আরও ২-৩ সপ্তাহ ধরে রাখা গেলে হয়তো একটা সহনীয় মাত্রায় আসতো। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে যেটা খেয়াল করছি যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালের ডাটা নিয়ে। তুলনামূলকভাবে সেই শনাক্তের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের ভেতরেই আমরা আছি। সেটা আসলে তেমনভাবে কমছে না। এখন যদি আবার কেস বাড়তে শুরু করে তাহলে সেটাই হবে আমাদের দ্বিতীয় ঢেউ। আর এটাকে ৫ শতাংশের নিচে নিয়ে আসতে পারলে স্বাভাবিক জীবন শুরু করা যাবে।

তিনি বলেন, মহামারির আগের জীবন আর পরের জীবন যেহেতু এক হবে না। তাই বিশ্বব্যাপী যতো কমিটমেন্ট আছে, একটা কমিটমেন্টও কেউ রাখবে না। আমাদের জীবনকালে পৃথিবীর সব দেশ একসঙ্গে দরিদ্র হবে। আমাদের একটা বিপদ হলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যে সার্পোটা দিতো, এখনো কমিটমেন্ট করি কোনো বিপর্যয় হলে আমাদের ডোনাররা সব এলাকায় যায়। গিয়ে বিশাল বিশাল কমিটমেন্ট করে আসে। আমরা ৫ বছরের অ্যানালাসিস করেছি। কমিটমেন্ট যত হয়, তার ১০ শতাংশ ফান্ড কখনো যায় না। এটা হলো বাস্তবতা। তাই এখনো আমরা কমিটমেন্ট পাবো, ফান্ডিং হবে কিনা আগামী এক-দুই বছরের আগে আমরা কেউ কিছু জানবো না। তাই আমাদের যা রির্সোস আছে সেগুলো নিয়ে কমিটেড টাকা নিয়ে এটার প্রপার ইউটিলাইজেশন করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত