মঙ্গলবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ইরফান ও তার দেহরক্ষী আবারও দুই দিনের রিমান্ডে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নৌ কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাময়িক বহিষ্কৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। এ সময় রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জনায় ইরফানের আইনজীবী।

অপরদিকে এ মামলায় আসামিদের দেয়া তথ্য যাচাই করতে ফের তাদের রিমান্ডে নেয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেককে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৮ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর তাদের প্রত্যেককে ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টায় ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খান। এ মামলার আসামিরা হলেন, ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরো কয়েক জন। এ মামলায় দীপু তিন দিন ও মিজানুর একদিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় হওয়া এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে আছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

তার আগে গত সোমবার সকালে ধানমন্ডি থানায় ইরফান সেলিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান।

ওয়াসিফ আহমেদ খান অভিযোগ করেন, আগের দিন রোববার রাতে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত একটি গাড়ি। ওয়াসিফ নিজের পরিচয় দিলেও গাড়ি থেকে নেমে একজন গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর গাড়িটি কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড সিগন্যালে দাঁড়ালে ওয়াসিফ মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে গিয়ে গাড়ির জানালায় টোকা দিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং কথা বলতে চান। গাড়ির ভেতরে থাকা লোকজন কোনো কথা না বলে তাঁকে উপর্যুপরি মারধর করেন। তিনি জানতে পারেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলাকারী সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। এর বাইরেও এজাহারে তিনি আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা হলেন মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দীপু, জাহিদ ও মিজানুর রহমান। মামলার চার আসামিই গ্রেপ্তার আছেন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফকে মারধরের জেরে গত সোমবার পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা সরকারদলীয় সাংসদ হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফানকে এক বছর কারাদণ্ড ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার কারণে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুলকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাস সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ছাড়া বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ইরফান ও জাহিদুলের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে র‍্যাব। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাগুলো হয়।

ইরফানকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, সাংসদ হাজি সেলিম ও তাঁর ছেলে ইরফান সেলিমের সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা তথ্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের অর্জিত ও দখলি সম্পদগুলো যদি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধে গণ্য হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত