সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

বিত্তশালীদের নিজ এলাকার দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

রাজধানীতে বসবাস করা বস্তিবাসীদের নিজ নিজ গ্রামে পাঠিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সবাইকে সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেবে সরকার’।

শনিবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১৬০টি গৃহহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি এবং নগদ তিন হাজার করে টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সচিবগণ গৃহহীন এসব পরিবারের হাতে চাবি ও নগদ টাকা তুলে দেন। এসময় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকারপ্রধান।

সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশে দারিদ্র থাকবে না জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সরকার সবাইকে সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেবে। ঢাকার বস্তিবাসীদের যার যার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের কোনো জমি অনাবাদি রাখা যাবে না। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। করোনাকালে গ্রাম পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’

‘বাংলাদেশ বিশ্বে মাখা উচুঁ করে বীরের জাতি হিসেবে চলবে’ বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

নিজ নিজ এলাকার দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলেমিশে কাজ করলে বাংলাদেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না এবং বেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে দেশ। তিনি বলেছেন, ‘শুধু নিজেরা ভালো থাকবো, নিজে সুন্দর থাকবো, নিজে আরাম আয়েশে থাকবো- আর আমার দেশের মানুষ এলাকার মানুষ কষ্টে থাকবে, এটা তো মানবতা না।’

প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা গ্রহণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যদিও করোনাভাইরাসের কারণে অনেকর কাজ থমকে গেছে। তারপরও আপনারা দেখেছেন, আমরা কিন্তু বসে নেই। এই করোনাভাইরাসের মধ্যেও আমরা একেবারে গ্রাম পর্যায়ের মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাও করে যাচ্ছি।

আমি মনে করি যারা আমাদের বিত্তশালী তারা যদি একটু যার নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যেকেই যদি অন্তত কিছু দুঃস্থ পরিবারের দিকে ফিরে তাকায়। কাউকে একটা ঘর করে দিলে, তাদের কিছু কাজের ব্যবস্থা করে দিল। তাদের একটু সহযোগিতা করল। শুধু নিজে ভাল থাকবো। নিজে সুন্দর থাকব। নিজে আরাম আয়েশে থাকবো- আর আমার দেশের মানুষ, আমার এলাকার মানুষ তারা কষ্টে থাকবে, এটা তো মানবতা না, এটা তো হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি যারা যে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, আমি সকলকেই বলবো, চাকরিজীবী বলেন, ব্যবসায়ী বলেন বা যে যেখানেই আছেন, প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা যার যার নিজ নিজ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, সেই স্কুলগুলোর উন্নয়নের জন্য একটু কাজ করেন বা আপনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই গ্রামে যে কয়টা মানুষকে পারেন, সহযোগিতা করেন। সবাই মিলে সম্মিলিত কাজ করলে পরে এদেশের দারিদ্র্য থাকবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ অনেক সাহসী। জাতির পিতা তো এই মানুষগুলোকে নিয়েই যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছেন, সেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সারাবিশ্বে সবচেয়ে শক্তিধর সেনাবাহিনী ছিল। তারা খুব গর্ব করত। তাদের আবার কে হারাবে? কিন্তু বাঙালিরা তো হারিয়ে দিয়েছে তাদেরকে। যুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসাবেই আমরা বিশ্ব দরবারে উঁচু করে চলবো।‘

মুজিববর্ষে নিজস্ব অর্থায়নে গৃহহীনদের ঘর উপহার জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এই চিন্তাভাবনা থেকে দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজকে যে মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে, একটা ঘর করে দিয়েছে। এটা একটা মহৎ কাজ আপনারা করেছেন।’

ভবিষ্যতেও এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে উঠবে, জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো।’

গণভবন প্রান্তে অন্ষ্ঠুানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া গৃহ পাওয়া তিন জন উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক খান, হাকিম মোল্লা এবং নিগুম চাকমার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত