বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী ৩ দিনের রিমান্ডে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর পৌনে একটার দিকে ঢাকা অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর এ আদেশ দেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে আব্দুল্লাহ আবু ও আজাদ রহমান প্রমুখ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে। তিনি নিজেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আশফাক রাজীব হায়দার দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখানোসহ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন।

এছাড়া সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে টাঙ্গাইল থেকে ইরফান সেলিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিকী দিপুকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দিপু এই মামলার অন্যতম আসামি। তাকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে উপস্থিত করে তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওয়াসিফ। মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, প্রোটকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে আটটার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামেন। এসময় গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিন জন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে নেমে আসেন এবং মারধর শুরু করে। তারা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেওয়া ও হত্যা’র হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত