সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামির সাজা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ৬ জনের ১০ বছর, ৪ জনের ৫ বছর ও ১ জনের তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় ৩ জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার সময় জেলা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলো- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আব্দুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, মো. নাঈম এবং তানভীর হোসেন।

এছাড়া জয়চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত ও সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিব্বুলাহকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর প্রিন্স মোল্লাকে দেয়া হয়েছে তিন বছরের কারাদণ্ড। অপরদিকে মামলার অপর তিন আসামি মারুফ মল্লিক, রাতুল সিকদার জয় ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

রায়ে বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং যারা হত্যায় অংশ না নিলেও দর্শকের ভূমিকায় ছিল, তাদের ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামির বয়স কম হওয়ায় তাকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, আলোচিত এই হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে সারা দেশে যে কিশোর গ্যাং সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, তা উৎসাহিত হবে।

এই রায়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা শিশু আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তাই এমন রায় প্রমাণ করে অপরাধী যেই হোক কোনো ছাড় নেই। মিডিয়ার মাধ্যমে পুরো দুনিয়া জানতে পেরেছে এ ঘটনা। আসামি যেই হোক কেউই যে অপরাধ করে পার পাবে না সেটা আবারও এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হলো।

তিনি আরও বলেন, মাত্র ৬৩ কার্য দিবসে এ মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মূলত সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ন্যায় বিচারের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে এবং তা হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা রায়ে সন্তুষ্ট নন। দ্রুত রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন এবং আপিল আবেদন করবেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। তাই আমরা সাত কার্যদিবসের মধ্যেই হাইকোর্টে আপিল করবো।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে জেলা শিশু আদালতে এ রায় পড়া শুরু করেন বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

গত ১৪ অক্টোবর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন বরগুনার শিশু আদালত।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। এরপর ১৩ জানুয়ারি থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক। আর বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত