বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

আওয়ামী লীগ কখনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যেখানে দুর্নীতি পাচ্ছি, সে আমার যত দলের হোক, কর্মী হোক যে যেই হোক, আমরা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাতে আমাদের বিরোধী যারা তাদের লেখার সুযোগ হচ্ছে বলার সুযোগ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ তো দুর্নীতি করছে কিন্তু এই কথাটা কেউ চিন্তা করছে না আওয়ামী লীগ তো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না, সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুক্ত হন। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। অন্যদিকে ইন্টার কন্টিনেন্টালে হোটেলে ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীসহ বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতারাসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধস্ত দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুভার্গ্য ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের সেই সম্ভাবনাটা সম্পূর্ণভাবে নসাৎ হয়ে যায়। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আমরা এরপরে কি দেখি? যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কারা? এদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি। যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে, মা-বোনদেরকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে গণহত্যা চালানোর সহযোগিতা তরেছে এবং লুটপাট করেছে অগ্নিসংযোগ করেছে, মূলত তারাই ১৯৭৫’র পর সরকার গঠন করে এবং তারাই ক্ষমতায় চলে আসে। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের একদিকে যেমন জীবন দিতে হয় আর আদর্শচ্যুত হয়ে যায় বাংলাদেশ, দিকহারা একটি দেশ। লক্ষ্যবস্তু কিচ্ছু নেই। সামনে কোনো লক্ষ্য ছিল না। এমনি একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতাদখল করেছিল, তারা একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। দুর্নীতির দরজা খুলে দিয়েছিল, ঋণখেলাপির কালচার শুরু করেছিল। লুটপাটের সুযোগ অবাধে করে দিয়ে এমন একটি শ্রেণি তৈরি করে দিয়ে যায়, যাতে তাদের ওপর নির্ভর করে যেন তারা চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে এবং তখন আমাদের অনেকেই তাদের সাথে হাতও মিলিয়েছিল। তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এরকমও ছিল এবং যারা আমাদের স্বাধীনতার সমর্থন করেনি, দেশী-বিদেশী চক্র তারাই তাদেরকে সমর্থন দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আস্তে আস্তে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেই হারিয়ে যায়। জাতির পিতার নামটাই মুছে ফেলা হয়। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ হয়। যে জয় বাংলা’র স্লোগান দিয়ে লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করেছে, দেশ স্বাধীন করে দিয়ে যাই। সেই স্লোগানও বাতিল করে দেয়া হয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে উল্টো দিকে দেশটা চলতে শুরু করে।

যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, ত্যাগের কথা ভুলে যায়, বীরত্বের কথা ভুলে যায়। সে জাতির উন্নতি কখনো হয় না। ২১টা বছর কিন্তু সেই অন্ধকার যুগেই বাংলাদেশের মানুষকে কাটাতে হয়েছে। কথাটা আমার হয়ত পছন্দ সবার নাও হতে পারে। শুধু আমি আপনাদেরকে বলেবো, সাংবাদিক হিসাবে, আপনারা একটু তুলনা করে দেখেন।

‘মাত্র ১১বছর একটানা আমরা ক্ষমতায়। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ ক্ষমতায় ছিলাম। সেই সময় অনেকগুলো কাজ আমরা হাতে নিয়েছিলাম দেশের উন্নয়নে, যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণ করে যেতে পারিনি। এরপর ২০০৮’র নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯’র সরকার গঠন করে এই ২০২০ পর্যন্ত আমরা এখন সরকারে। এই এত অল্প সময়ের মধ্যে যদি দেশের এতো উন্নতি করা যেতে পারে, দারিদ্র্যের হার যদি ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামানো যেতে পারে। মাথাপিছু আয় যদি বৃদ্ধি করা যায়? অবকাঠামো উন্নয়ন করা যায়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা যায় তাহলে ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল কেন করতে পারেনি? পারে নাই সেটা না, এটা তাদের নীতির ব্যাপার ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দেওয়া, বাংলাদেশের মানুষকে অসহায় করে রাখা, দরিদ্র্য করে রাখা, দরিদ্র্য হাড্ডিসার মানুষগুলোকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে সাহায্যের নামে টাকা এনে সেই টাকা অধীনস্ত করা, পকেটস্থ করা, দুর্নীতিটাকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করা।’

তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপরেই গুম খুন, থেকে শুরু করে কেউ কথা বললে তাদেও ওপর নির্যাতন নেমে আসত, সেরকম একটি অবস্থা ছিল বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এদেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করেছে, সেটা হল সরকার জনগণের সেবক। আমি সেই ঘোষণাটাই প্রথম দিয়েছিলাম। আর সেইভাবেই সেই নীতি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতার স্বপ্নটা পূরণ করবার জন্য। যে জাতি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে বিশে^ মর্যাদা অর্জন করেছিল ৭৫’র ১৫ আগস্টের পর সেই ভুলুন্ঠিত হয়েছিল। বিদেশের মানুষ জানত যে মানুষটি আপনাদের স্বাধীনতা এনে দিল, তাকেই আপনারা হত্যা করলেন?’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অন্তত এইটুকু দাবি আমি করতে পারি, বর্তমানে কিন্তু সেই অবস্থাটা আমাদের আছে। আমরা অর্জন করেছি। মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই এখন বাংলাদেশকে সবাই মর্যাদার চোখে দেখে। বাংলাদেশ পারে, সল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসলে সংবাদপত্র তো বলে সমাজের দর্পণ। কাজেই সেই সমাজের দর্পন যেটা হবে সেটা যেন অন্তত মানুষের চিন্তা চেতনাটা যেন অন্তত দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয় তাদের ভিতর মানবতা বোধটা যেন থাকে, তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে। একটা সময় আমাদের দেশে ছিল যতই দুর্নীতি হোক যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হতো। আমাদের সরকার কিন্তু আমরা তা করছি না। যেখানে যে রিপোর্ট হচ্ছে আমরা যা খবর পাচ্ছি যতটুকু! কোথাও কোন দুর্নীতি বা কোথাও কোনো ধরনের অন্যায় হলে পরে আমরা কিন্তু কখনো এই চিন্তা করি না যে এটা করলে এর সঙ্গে আমার দল জড়িত কি না বা আমার অমুক জড়িত কি না বা আমার পার্টির বদনাম হবে কি না সরকারের বদনাম হবে কিনা আমরা কিন্তু সেই চিন্তা কখনো করি না। আমি চিন্তা করি যেখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। হ্যাঁ, এটা নিতে গিয়ে হয় এমন অনেক সময় দোষটা আমাদের উপরেই এসে পড়ে। ধরলেও আওয়ামী লীগ সরকারই বোধহয় দুর্নীতি করছে, ঘটনা তা নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর এর কারণ তুলে তুলে ধরে বলেন, ‘দুর্নীতির বীজ বপন করে গিয়েছে ’৭৫ পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো। প্রথমে জিয়াউর রহমান এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। আর তারা দুর্নীতিটাকে প্রশ্রয় শুধু দেওয়া নয় নিজেরা দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আমরা কিন্তু সেটা কখনো করছি না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। বাংলাদেশে হলি আর্টিজানের মতো বহু ঘটনা ঘটেছে। অনেকে ভেবেছিল এটি বোধ হয়, বাংলাদেশ একা সামাল দিতে পারবে না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা এটা সামাল দিয়েছিলাম এবং পরবর্তী সময়ে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের পুলিশ, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আনসার বাহিনী থেকে শুরু করে যতগুলো সংগঠন আছে সবাইকে সক্রিয় করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা দেশের মানুষ, তাদের সচেতনতা এবং জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটা মানসিকতা গড়ে তোলা। মানুষ যদি সঙ্গে না থাকে মানুষ যদি পাশে না থাকে তাহলে কোনো জায়গায় কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি এবং সেভাবেই কাজ করি। কারণ আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলি।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত