শুক্রবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বাংলাদেশ-ভারত এয়ারবাবল চুক্তি, প্রস্তাবনাতে স্বার্থ বেশি ভারতের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল তথা আকাশ পথে নতুন চুক্তি হতে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারতের নাগরিকরা সরাসরি প্রবেশ করতে পারবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ এবং ভারত যে এয়ার বাবল চুক্তির প্রস্তাবনা ভারতের পক্ষ থেকে এসেছে সেখানে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত বেশি লাভবান হবে।

তবে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন বলছে, ভারত যে প্রস্তাবনা দিয়েছে সেটিই যে বাস্তবায়িত হবে এমনটি নয়। কারণ বাংলাদেশ-ভারত এয়ার বাবল চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন থেকে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আর সিভিল অ্যাভিয়েশন পক্ষ থেকে গত মাসে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ চিঠি দেওয়া হয়। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির শর্তে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাবেন তাদের প্রত্যেককে আবার নতুন করে ভারতীয় ভিসা নিতে হবে। আগের ভারতীয় ভিসার মেয়াদ থাকলেও সেটা আর কার্যকর হবে না। ফলে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন বলছে, যারা নতুন ভিসা নেবে সেটা কিসের ভিত্তিতে হবে আর কি অগ্রাধিকার পাবে সেটা আলোচনার বিষয় রয়েছে। এছাড়া এয়ার বাবলের অধীনে ভিসা ক্যাটাগরিতে স্বাস্থ্য ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের নাগরিকরা যেতে পারবে। তবে এখানে রোগীর সাথে একজন করে যেতে পারবে সহযোগী হিসেবে।

অধিকাংশ সময় দেখা যায়, বাংলাদেশের যেসব নাগরিক ভারতে চিকিৎসার জন্য যান তাদের সঙ্গে দুই থেকে তিনজন যেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের নাগরিকদের একজন সহযোগী দিয়ে হয় না। এটি না হলে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিরা যেতে পারবে না। এটি নিয়েও আলোচনা চলছে।

আরও জানা গেছে, ভারতের যে স্বাস্থ্য অবস্থা তথা করোনার যে পরিস্থিতি সেই বিবেচনায় এখন এটা কতটা চুক্তিসঙ্গত সেটা নিয়েও কথা রয়েছে। এটি আমাদের বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে দুই দেশের যে প্রটোকল রয়েছে সেটা দুই দেশ মানবে কিনা? তাই এয়ারবাবলে যাত্রীরা আসা যাওয়া করলেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরকে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। এটি নিয়েও আলোচনা চলছে। এগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলেচনা করে পরিষ্কার করতে হবে। যা আলোচনাধীন। এ ছাড়া কয়টি ফ্লাইট চলবে এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে প্রস্তাবনাতে বাংলাদেশ বলেছে, বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে ৫ হাজার যাত্রী ভারতে যাবে। কিন্তু ভারত বলেছে তারা সপ্তাহে ১৭ হাজার যাত্রী বাংলাদেশে পরিবহন করবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে ১৭ হাজার যাত্রী এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের এ মুহূর্তে বিমানবন্দরগুলোর যে অবস্থা সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এত যাত্রী ভারতে পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। তবে ভারতের যে চাহিদা সেটা ১৭ হাজারের জায়গায় হয়তো ৫ বা ৭ হাজার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা বাংলাদেশ অনুমতি দেবে।

আরও জানা গেছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা পদ্ধতি যদি রিলাক্স না করে তবে আমাদের দেশের ভিসা পদ্ধতি রিলাক্স তাই ভারত যদি সহায়তা না করে তবে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত বেশি লাভবান হবে। আর তাদের দেশের যাত্রী পরিবহনে সম্মতি দিয়েছে। বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ার। আর ভারতের ৬-৭টি এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহনে ইচ্ছা পোষণ করেছে।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, এয়ার বাবল চুক্তি ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করেছে। সেখানে চুক্তিটা হয় সমান সমান। কোন দেশ কম নয় সেখানে দুই দেশের স্বার্থ সমান থাকে। আমাদের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা দিয়ে গত মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে। এটা এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে ভারতের সিভিল এভিয়েশন বলেছে বাংলাদেশ যে যাত্রী চাইবে সেটা তারা অনুমতি দেবে। কিন্তু ভারত যা চেয়েছে সেটা সম্ভব নয়। এ সব বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চালু হলে মেডিক্যাল, বিজনেস ও অফিশিয়াল ক্যাটাগরিতে ভারতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তখন আরও বেশি মেডিকেল ভিসা ইস্যু করা হতে পারে। তবে টুরিস্ট ভিসা আপাতত বন্ধ থাকবে।

অপরদিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গত মাসে ঢাকা সফরকালে এয়ার বাবল চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসও গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত