সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

দৃষ্টিহীনরাও পড়বেন অসমাপ্ত আত্মজীবনী— ব্রেইল সংস্করণ উন্মোচন

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণ উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন লাইব্রেরিতে যদি এটা রাখা যায় তাহলে আমাদের যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তারা পড়তে পারবে। কারণ, কারও পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করে পড়া খুব কঠিন। কিন্তু লাইব্রেরিতে থাকলে তাদের পড়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণ উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে যুক্ত হয়ে উন্মোচন ঘোষণা করেন। এ সময় অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি প্রকাশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় আমি যখন বেঁচে যাই তার পরপর আমাকে এই খাতাগুলো এসে একজন দেয়, সে আমার ফুপাতো ভাই মারুফ। ওর কাছে খাতাগুলো রাখা ছিল। অথছ আমি বারবার ওর বাসায় গেছি, অনেকবার খোঁজ করেছি কিন্তু সেটা কখনো বের করেনি। কি মনে করে সেদিন আমার হাতে দিয়ে গেল।’

তিনি বলেন, ‘বইটি কিন্তু ইতোমধ্যে প্রায় ১৪টি ভাষায় সারাবিশ্বে অনুবাদ হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি চেয়েছে। সারাবিশ্বে যারাই এটা পড়েছে তাদের কাছে এটা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে ইতিহাস, এমনকি আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস যে বিকৃতি করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম সব জায়গা থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। এই বই প্রকাশের পর অন্তত সেই ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পাই। পরবর্তী সময়ে আমি ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চের রিপোর্টগুলো প্রকাশ করি। ইতোমধ্যে সেগুলোর ছয় খণ্ড ছাপা হয়ে গেছে। আরও ৭/৮ খণ্ড আমাদের কাছে আছে। আমি দেখে দিলে ছাপা হয়ে যাবে। এর মধ্যে দিয়ে কিন্তু সংগ্রামের ইতিহাস, বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ইতিহাসটা বের হয়ে আসে। এছাড়া আমরা কীভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি সেটা ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা লেখা কারাগারের রোজনামচা; এই কারাগারের রোজনামচা নামটা শেখ রেহানার দেওয়া। এটা ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেওয়ার পর তাকে যখন গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়, সেই সময় তিনি এই ডায়েরিটা লিখেন। আর নয়া চীন এটা হচ্ছে, চীন ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন ১৯৫২ সালে। একটি শান্তি সম্মেলনে। ১৯৫৪ সালে যখন তিনি গ্রেফতার ছিলেন তখন এই লেখাটা লেখেন জাতির পিতা। প্রত্যেকটা খাতার উপরে যেহেতু জেলখানায় সেন্সরশিপের সিল এবং সই পেয়েছি সেখান থেকেই আমরা কিন্তু সময়গুলো বের করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিনা পয়সায় বই বিতরণ করি। প্রাইমারি থেকে সেকেন্ডারি পর্যন্ত আমরা তাদের বই দিই। আমরা তাদের বইও ব্রেইলে প্রকাশ করা শুরু করেছি। কিন্তু আজকে ব্রেইলে এই বই প্রকাশ করার ফলে আমি মনে করি, আমাদের সমাজের একটা মূল্যবান গোষ্ঠী যারা পড়াশোনা করছে তারাও ইতিহাসটা জানার সুযোগ পাবে। তারাও যে আমাদের একজন সেটাই কিন্তু প্রমাণিত হলো।’

ব্রেইলে বই প্রকাশ করার ফলে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রকাশ করা বেশ কঠিন কাজ ছিল। আমি মনে করি যে, বিভিন্ন লাইব্রেরিতে যদি এটা রাখা যায় আমাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সংগ্রহ করতে পারবে। কারণ কারও পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে এগুলো সংগ্রহ করে পড়া খুব কঠিন। কিন্তু লাইব্রেরিতে থাকলে তাদের পড়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে।’

জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসাবে আমরা গড়ে তুলবো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করছি। কাজেই জন্মশতবার্ষিকীতে এই ব্রেইলে তার নিজের লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী যেটা তিনি কারাগারে বসে লিখেছিলেন, এই বইটি প্রকাশ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি সত্যি খুব আনন্দিত যে, আপনারা মহৎ একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। মুজিববর্ষে এটাই আমাদের অঙ্গীকার, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।’

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ছয়টি খণ্ডে একশটি ব্রেইল সংস্করণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত