সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

জিন সম্পাদনায় নতুন প্রযুক্তি, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ডিএনএ সম্পাদনার জন্য নতুন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের দু’জন বিজ্ঞানী। তারা হলেন- ফ্রান্সের এমানুয়েল চারপেনটায়ার ও যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার এ দোনা। বুধবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ওই তিন রসায়নবিদের নাম ঘোষণা করেছে।

র‌য়্যাল ‍সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস জানাচ্ছে, জিন সম্পাদনার ক্ষেত্রে একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য তাদেরকে যৌথভাবে এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হলো।

তারা যৌথভাবে জিন প্রযুক্তির সবচেয়ে কার্যকরী যে প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে; তার নাম সিআরআইএসপিআরস বা ক্যাস৯ জেনেটিক ছুরি। এটি ব্যবহার করে গবেষকরা খুব সহজেই প্রাণী, উদ্ভিদ এবং অণুজীবের ডিএনএ পরিবর্তন করতে পারেন।

তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানের ওপর একটি যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছে। এটি অবদান রাখছে নতুন ক্যান্সার থেরাপিতে। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রোগ নিরাময়ের স্বপ্নকে সত্য করে তুলতে পারে এই ‍প্রযুক্তি।

এমানুয়েল চারপেনটায়ার ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সের জুভিসি সুর অর্গে নামক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি করা এমানুয়েল এখন জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থিত ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্সেস অব প্যাথোজেনস এর পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

এর আগে গত বছর নতুন রাসায়নিকের জন্য এনজাইমের উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ার গবেষণা করে শান্তিতে নোবেল পান মার্কিন নারী রসায়নবিদ ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার।

এদিকে মহাবিশ্বের অন্যতম বিস্ময় কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে নতুন আবিষ্কারের গবেষণায় চলতি বছর পদার্থে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানী রজার পেনরোস, মার্কিন জ্যোতির্বিদ রেইনহার্ড গেঞ্জেল ও জার্মান পদার্থবিদ আন্দ্রিয়া ঘেজতিন বিজ্ঞানী। মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি এ বছরের পদার্থে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

গত সোমবার হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আবিষ্কার এবং এর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী হার্ভে জে আল্টার ও চার্লস এম রাইস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল হাউটন দুই মার্কিন বিজ্ঞানীকে রসায়নের নোবেল জয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

নতুন নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানব জাতির কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রত্যেক বছর নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। সুইডিশ ব্যবসায়ী ও ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসা হচ্ছে।

নোবেল কমিটিগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি থেকে সাহিত্যে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে এবং সোমবার (১২ অক্টোবর) দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত