রবিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শিশুদের ওপর নির্যাতন হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

শিশুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধনের সময় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সরকারপ্রধান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

‘ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শিশুদের গড়ে তুলতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘খাদ‌্য নিরাপত্তার পাশাপাশি শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণের দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। খাদ‌্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং স্কুলে ঝড়েপড়া বন্ধে ফিডিংয়ের ব‌্যবস্থা করেছি। যাতে তারা স্কুলে থাকে।’

‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিও নজর দেয়া হচ্ছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের চিকিৎসা, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব‌্যবস্থা এবং এমনকি যারা চোখে দেখতে পারে না তাদের জন‌্য ব্রেইল বই দিচ্ছি। প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ‌্যমিক পর্যন্ত আমরা বিনামূল‌্যে বই দিচ্ছি। শারীরিক অসুবিধা থাকলে তারা যেন কারো বোঝা হয়ে না থাকে সেই জন‌্য বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। আমাদের এই শিশুরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করছে। বিশেষ অলিম্পিকে প্রতিবন্ধী শিশুরাই স্বর্ণ জয় করে এনেছে। তারা ২১টি স্বর্ণসহ ৭১টা ট্রফি নিয়ে আসতে পেরেছে। তাদের যে মেধা তা বিকাশে বিশেষ একাডেমি করে দিচ্ছি আমরা।’

এসময় ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে নিহত পরিবারের সদস্য ও শিশুদের হারানো কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ছিল মাত্র ১০ বছরের একটি শিশু। ঘাতকের দল তাকেও ছাড়েনি। সেই সাথে আরও কয়েকজন শিশুকে তারা হত্যা করে। আমার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে ছোট শিশু সুকান্ত তাকে হত্যা করেছে। আমার ফুফাতো ভাই ১০ বছরের আরিফ, রাসেলের খেলার সাথী তাকে হত্যা করেছে। আমাদের বাড়িতে কাজ করতে পোটকা এবং পোটকার মা, ছোট্ট বাচ্চা ছেলে মাত্র ৫/৬ বছর বয়স। তাকেও খুনিরা ছাড়ে নাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমাজের কোনো স্তরের কেউ যেন বাদ না পড়ে সে জন‌্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বৃত্তি আমরা দিচ্ছি। করোনার মধ‌্যেও বৃত্তি উপবৃত্তি পৌঁছে দিচ্ছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করে দিচ্ছি। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলার জন‌্য আমরা প্রত‌্যেকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কাজ করছি। নানা ধরনের অত‌্যাচার নির্যাতন হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব‌্যবস্থা নিচ্ছি।’

এসময় স্বাধীনতার পর জাতির পিতার নেতৃত্বে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রতিবন্ধীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে শিক্ষাবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের কোনো স্তরের কেউ বাদ না যায় সেই সাথে আমরা তাদের বিশেষ ভাতা দিয়ে থাকি। শিশুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন হলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে যেন বিচার করা যায় সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপত্তা নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে শিশুদের নানামুখী সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুল খুলতে পারছি না, বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। এটা বাচ্চাদের জন্য সত্যি খুব কষ্টের। কারণ ঘরের মধ্যে বসে থাকা, কোন কিছু করা বা আর কি করবে তারা? তবে যৌথ পরিবারেরর শিশুদের খবু একটা কষ্ট হয় না। তাদের কথা বলার একটা সুন্দর পরিবেশ থাকে, কথা বলার একটা সুযোগ পায়। কিন্তু যেখানে একা পরিবার, একা শিশু বা মাত্র এক ভাই বা দুইভাই বোন, এরকম ছোট্ট পরিবার তাদের জন্য সত্যি খুব কষ্টকর।’

এজন্য অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অন্ততপক্ষে এই করোনাভাইরাস যেহেতু স্কুলে যেতে পারছে না তাই বাচ্চাদের অন্তত কাছাকাছি কোনো পার্কে, বা কোথাও আপনাদের বাচ্চাদের দিনে এক ঘণ্টার জন্য হলেও তাদের একটু নিয়ে যাবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই চলতে হবে। কিন্তু সাথে সাথে বাচ্চাদের একটু খেলাধুলার ব্যবস্থা করা বা তাদের একটু খোলা বাতাস, খোলা রোদে খেলতে দেওয়া, এটা এই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।’

অনুষ্ঠানে দুই শিশুর বক্তব্যের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো মনে করি তাদের বক্তব্য এতো সুন্দর, ভবিষ্যতে তারা খুব ভাল বক্তা হতে পারবে। নেতাও হতে পারবে, নেতৃত্বও দিতে পারবে আর আজকের এই শিশুদের মধ্যে থেকেই তো কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে বা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বা বৈজ্ঞানিক- অনেকেই অনেক কিছু হতে পারবে। আর আমরা সে ধরনের বহুমুখী জ্ঞান বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় সব আমরা করে দিচ্ছি যাতে বহুমুখী শিক্ষাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা মানুষের মতো মানুষ হয়। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত জ্ঞানে-বিজ্ঞানে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে বাঙালি জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলবে। সেটাই আমরা চাই।’

বক্তব্য শেষ করার আগে অভিভাবক, ছোট্ট সোনামণি ও শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশপাশি সবার সুস্থতা কামনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত