বৃহস্পতিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

‘ব্যানকোভিড’ টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর, দাবি গ্লোব বায়োটেকের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের উদ্ভাবিত টিকা ‘ব্যানকোভিড’ প্রাণীদেহে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাটি অ্যানিমেল (প্রাণী) মডেলে নিয়ন্ত্রিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আজ সোমবার দুপুরে গুলশানের লেকশোর হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছে গ্লোব বায়োটেক।

সংবাদ সম্মেলনে ‘ব্যানকোভিড’ টিকা প্রাণীদেহে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার দাবি করেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের সিইও ড. কাকন নাগ। তিনি জানান, বর্তমানে সারাবিশ্বে করোনা আক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এই সংক্রমণে ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্টটি শতভাগ দায়ী বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদও (বিসিএসআইআর) বাংলাদেশে সংক্রমণের জন্য ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্টকে দায়ী বলে নিশ্চিত করেছে।

কাকন নাগ বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ‘ব্যানকোভিড’ টিকাটি ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রথম ও একমাত্র আবিষ্কৃত টিকা। ইতোমধ্যে অ্যানিমেল মডেল ইঁদুরে নিয়ন্ত্রিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যানকোভিড সম্পর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যার বিস্তারিত ফলাফল বায়ো-আর্কাইভে (biorxiv) প্রি-প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।’

গ্লোব বায়োটেকের সিইও আরও বলেন, ‘আমরা বর্তমানে কন্ট্রাক্ট রিসার্স অর্গানাইজেশনের (সিআরও) সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল তৈরির কাজ করছি। আশা করছি, তারা খুব শিগগিরই বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নৈতিক ছাড়পত্রের জন্য এই প্রটোকলসহ আবেদন করবেন। বিএমআসির নৈতিক অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে তারা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছেও প্রটোকলস ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।’

গত ২ জুলাই করোনার টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা করে গ্লোব বায়োটেক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেসে প্রাপ্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক করোনার সব সিকুয়েন্স বায়োইনফরমেটিক্স টুলসের মাধ্যমে বিশদ পর্যালোচনা করে আমাদের টিকার লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এই টিকা সারাবিশ্বে অধিক কার্যকরী হবে বলে যৌক্তিক আশা তাদের। তাদের টিকার টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকুয়েন্স এনসিবিআই ডাটাবেসে জমা দেওয়া হয়েছে, যা প্রকাশও পেয়েছে।

গ্লোব বায়োটেক বলছে, ‘আমাদের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর প্রাথমিকভাবে ল্যাবরেটরি অ্যানিমেল মডেলে (খরগোশ) প্রয়োগ করে যথাযথ অ্যান্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়ে টিকা গবেষণার সফলতা জাতিকে জানিয়েছি। আমাদের উদ্ভাবিত BANCOVID নামের BAN একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা COVID-19 কে ব্যান বা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে। আমরা দ্রুততম সময়ে টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসীর সেবায় ব্যানকোভিডকে উৎসর্গ করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশিদ কিরণ। উপস্থিত ছিলেন গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ, ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত ডি ৬১৪জি ভ্যারিয়েনটস এমআরএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম বলে জানিয়েছে মার্কিন মেডিকেল জার্নাল বায়োআর্কাইভ। গত বৃহস্পতিবার এ খবর জানা যায়। জার্নাল বায়োআর্কাইভ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে নিজেদের ওয়েবসাইটে।

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশন্সের ম্যানেজার ও ইনচার্জ এবং টিকা আবিষ্কারের গবেষক দলের সদস্য ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ রোগের টিকা আবিষ্কারের দাবি করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড ২০১৫ সালে ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস, রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, অটোইমিউন ডিজিজসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগ নিরাময়ের জন্য বায়োলজিক্স, নভেল ড্রাগ এবং বায়োসিমিলার উৎপাদনের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’ গবেষণার পাশাপাশি কোভিড-১৯ ‘শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ’ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণাও শুরু করেছে তারা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত