শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ট্রাম্পের ‘প্রকৃত অবস্থা’ নিয়ে ‘নাটক’ চলছে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তিনি আসলে কেমন আছেন, তা নিয়ে সুনিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। হোয়াইট হাউজও স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। ফলে হোয়াইট হাউজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে সংকট তৈরি করেছে।

যদিও শনিবার (৩ অক্টোবর) ট্রাম্প নিজেই এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি হাসপাতালে আসার সময় অসুস্থ বোধ করলেও এখন ভালো আছেন। হোয়াইট হাউজের চিকিৎসকরাও একই দাবি করেছেন।
তবে, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস বলেছেন ভিন্ন কথা। তাকে উদ্ধৃত করে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শুক্রবার কঠিন সময় পার করেছেন ট্রাম্প। সামনের ৪৮ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি ঝুঁকিমুক্ত নন।

এদিকে, ট্রাম্পের প্রধান চিকিৎসক ডা. শন কনলি অবশ্য স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট শঙ্কামুক্ত নন। তবে তিনিসহ অন্য চিকিৎসকরা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর ছিল না। বরং গণমাধ্যমে তাদের পরস্পরবিরোধী কিংবা সাংঘর্ষিক অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে।

এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) মৃদু উপসর্গ দেখা দেওয়ায় টন মেরিল্যান্ডের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সবাইকে আশ্বস্ত করে ট্রাম্প টুইটারে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন।

একইদিন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক শন কনলি বলেন, এখন পর্যন্ত ট্রাম্পকে অক্সিজেন দিতে হয়নি এবং অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, চিকিৎসকের এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোসের বক্তব্যে ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
ওয়াল্টার রিড হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে মিডোস সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টা প্রেসিডেন্টের অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক ছিল। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা তার চিকিৎসার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থতার পথে নেই।

জানা গেছে, ট্রাম্পের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে মার্ক মিডোস যে মূল্যায়ন দিয়েছেন – তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজ সংশ্লিষ্ট এক রিপাবলিকান নেতাকে উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষোভের জেরেই নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো দাবি করে ভিডিও বার্তা দেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, তার বিশ্বস্ত রুডি গিউলিয়ানিকে তার পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়ার এখতিয়ার দেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে ট্রাম্পকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল। আর ওইদিন বিকালে তাকে হেলিকপ্টারে করে সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস’র এক প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল। অথচ অক্সিজেনের ব্যাপারে কনলি বলেন, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে কোনও অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। এ মুহূর্তেও অক্সিজেন চলছে না। আমরা সবাই যখন ছিলাম, তখনও তাকে অক্সিজেন দিতে দেখিনি। তবে, তাদের অনুপস্থিতিতে বা কোনও একটা সময়ে ট্রাম্পকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি।

কনলি বলেন, ট্রাম্পের মৃদু কাশি, সর্দি ও ক্লান্তিসহ যে লক্ষণগুলো দেখা গিয়েছিল, তা এখন ঠিক হচ্ছে এবং অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তার দাবি, ২৪ ঘণ্টা প্রেসিডেন্টের জ্বর ছিল না। তবে ট্রাম্প অ্যাসপিরিনও নিচ্ছেন। এটি শরীরের তাপমাত্র কমায়। কনলি বলেছেন ট্রাম্প কোনও ধরনের জটিলতা ছাড়াই হাসপাতালে হাঁটাহাঁটি করতে পারছেন। শন ডুলি নামের আরেক চিকিৎসক ট্রাম্পের স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে বলেন, তার স্পৃহা অসাধারণ রকমের ভালো। তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের হার্ট, কিডনি ও লিভারের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। শ্বাস নিতে কিংবা হাঁটতে তার কষ্ট হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির শুরু থেকেই তথ্য প্রকাশে ট্রাম্প প্রশাসনকে স্বচ্ছ থাকতে দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং হোয়াইট হাউজে কীভাবে করোনা ছড়ালো তা নিয়েও তাদের একই রকমের অবস্থান দেখা গেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগিদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরটি প্রথম মিডিয়াতেই প্রকাশ হয়েছিল, হোয়াইট হাউজ তা প্রকাশ করেনি। ট্রাম্পের শরীরে কী উপসর্গ আছে, তার কোন কোন পরীক্ষা করাতে হয়েছে, তার ফল কী-এসব তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।

পাশাপাশি, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে ট্রাম্প নিজেই টুইট করে জানান তার ও স্ত্রী মেলানিয়ার শরীরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। কিন্তু, সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ডা. কোনলি ইঙ্গিত করেছিলেন, ট্রাম্পের ডায়াগনসিস হয়েছে ৭২ ঘণ্টা আগে। তার মানে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে করোনা আক্রান্ত ছিলেন।

পরে কোনলি জানান, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাম্পের শরীরে যথার্থভাবে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা হপ হিকস-এর করোনা পজিটিভ শনাক্তের পরই প্রেসিডেন্টের উপসর্গ দেখা যায় এবং পরীক্ষা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত