বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ডোপ টেস্ট হবে ১৯ জেলায়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দ্রুতই সরকারি চাকরির নিয়োগে ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে দেশের ১৯ জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে এ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের কাজও চূড়ান্তের পথে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হওয়ার পরই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের আগে অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার সঙ্গে ডোপ টেস্ট করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এ ডোপ টেস্টের বিষয় উল্লেখ থাকায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপসচিব দীপংকর বিশ্বাসের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড বা ক্ষেত্র বিশেষ সমপদমর্যাদার কোনো মেডিকেল অফিসার কর্তৃক স্বাস্থ্য বিষয়ক যেসকল পরীক্ষা করা হয় তার সঙ্গে ডোপ টেস্ট অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রজ্ঞাপন জারির পরে ওই বছরই অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিধিমালা না থাকায় তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। যতটুকু করা যাচ্ছে তা সম্পন্ন করতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কেন্দ্রগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে, ওই সিদ্ধান্তের পর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শাখায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে ডোপ টেস্টের জন্য। কিন্ত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব টেস্ট করা কর্মকর্তাদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে যে টেস্ট করা হচ্ছে তাতে ডোপ টেস্টে মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ সাতদিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ দুই মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে ১ বছর (১২ মাস) এবং স্প্যাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়বে গত পাঁচবছরের মধ্যে মাদক গ্রহণের তথ্য। কিন্তু বর্তমানে শুধু ইউরিন পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি ১০ দিনের ভেতর মাদক গ্রহণ করেছেন কি না তা ধরা পড়বে।

শুরুর দিকে ডোপ টেস্ট ফ্রি থাকলেও গত বছরের অক্টোবরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এক পরিপত্র জারি করে ফি নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী ডোপ টেস্টের জন্য নন স্পেসিফিক পরীক্ষার জন্য ৬০০ টাকা (এর মধ্যে রয়েছে বেঞ্জেডায়াজেপিন, এমফেটামাইনস, অফিয়েটস ও কেননাবিনেয়েডস পরীক্ষা) অ্যালকোহল পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা। শুধু সরকারি চাকরিই নয় বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মাদকদ্রব্য আইনের আলোকে যে বিধিমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করছে, তাতে বলা হয়েছে মাদকদ্রব্য সেবনের আলামত পাওয়া গেলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাবেন না। ডোপ টেস্ট পজেটিভ হলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন। আবার কর্মরতদের মধ্যে কেউ মাদকদ্রব্য সেবন করছেন এমন আলামত পাওয়া গেলেও সরকারি চাকরির আচরণ বিধিমালার আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া সরকারি বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে বিআরটিএ ডোপ টেস্ট করে নিশ্চিত হবে আবেদনকারী মাদকাসক্তি কি না। মাদকাসক্ত হলে তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। কর্মরত গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য গ্রহণের বিষয়ে সন্দেহ হলে ডোপ টেস্ট হবে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই বাছাই শেষে এখন বিধিমালা তৈরির কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুতই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ এ বছরেই ডোপ টেস্ট শুরু করতে চায় সরকার।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘বিধিমালার কাজ শেষ পর্যায়ে। আমরা প্রাথমিকভাবে দেশের ১৯টি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু করতে মাদকদ্রব্য অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চিঠি দিয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিকভাবে দেশের ১৯ জেলায় মাদকদ্রব্য অধিদফতরে ডোপ টেস্টের আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ডোপ টেস্ট করার জন্য দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী দিনাজপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল, খুলনা, পাবনা, রংপুর, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, বগুড়া, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার এবং যশোর এই ১৯ জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে যন্ত্রপাতি বসানো হবে।

একইসঙ্গে বিধিমালা অনুযায়ী, ডোপ টেস্টের বিষয়ে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালটেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদফতরেরর মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক, কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষক, পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ পাঁচজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তবে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির প্রধান থাকবেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক।

এ কমিটি মানবদেহে মাদকের উপস্থিতি নিনর্য়ের পদ্ধতি, কোনো উপাদান পরীক্ষা করা হবে, ডোপ টেস্টের ব্যয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক বিশেষায়িত ডোপ টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে। এদিকে এ সব কাজের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ১০২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত