সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বেলারুশকে করোনার টিকা দিল রাশিয়া

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ইউরোপের দেশ বেলারুশকে পরীক্ষার জন্য করোনার টিকা দিয়েছে রাশিয়া। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

রাশিয়া থেকে ইতিমধ্যে বেলারুশে প্রথম ব্যাচের ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার চালান পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার বাইরে এই প্রথম তাদের উদ্ভাবিত করোনার টিকা গেল। রাশিয়ার টিকা এই প্রথম বাইরের কোনো দেশে পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

টিকা তৈরিতে অর্থায়ন করা রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) বলছে, বেলারুশের স্বেচ্ছাসেবীরা আগামী ১ অক্টোবর রাশিয়ার টিকা গ্রহণ শুরু করবেন।

টিকাটি যৌথভাবে তৈরি করেছে রাশিয়ার গামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলারুশে টিকা পরীক্ষায় অর্থায়ন করবে আরডিআইএফ। দেশটিতে ১০০ জনের ওপর এই টিকার পরীক্ষা চালানো হবে।
বেলারুশের আটটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে টিকা পেয়ে গেছে।

আরডিআইএফের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছেন, বেলারুশ ছাড়াও স্পুটনিক-ভি টিকাটি ব্রাজিল, ভারত, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া।

আরডিআইএফ বলছে, এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে ৫০টির বেশি দেশ টিকা পেতে আবেদন করেছে।

আরডিআইএফ কর্তৃপক্ষ আগেই মেক্সিকোকে ৩ কোটি ২০ লাখ, ব্রাজিলকে ৫ কোটি, ভারতকে ১০ কোটি ও উজবেকিস্তানকে সাড়ে ৩ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার চুক্তির কথা জানায়।

গত আগস্ট মাসে রাশিয়ার টিকা গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানান মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। তিনি বলেন, রাশিয়ার টিকা কার্যকর কি না, সে পরীক্ষায় যেসব স্বেচ্ছাসেবীর ওপর টিকাটি প্রয়োগ করা হবে, তাঁদের মধ্যে প্রথম হতে চান তিনি।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে জানায়, স্পুটনিক-৫ নিয়ে সন্দেহ থাকলেও পুতিন এই টিকা অন্য দেশগুলোকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভার্চ্যুয়াল অধিবেশনে পুতিন বলেছেন, ‘আমরা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুত। এবং সব দেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই। এই সহযোগিতার মধ্যে রাশিয়ার টিকাও রয়েছে।’

জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ‘রাশিয়া জাতিসংঘকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে জাতিসংঘ ও তার অফিসের কর্মীদের টিকা দেওয়ার জন্য আমাদের টিকা বিনা মূল্যে সরবরাহ করার প্রস্তাব দিচ্ছি।’

গত আগস্ট মাসে রাশিয়া তাদের প্রথম করোনার টিকার অনুমোদন দেয়। অল্প কিছু মানুষের মধ্যে টিকাটি পরীক্ষা করায় এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

টিকা অনুমোদনের সময় পুতিন বলেছিলেন, টিকার কার্যকারিতা ও স্থায়ী প্রতিরোধ সুরক্ষার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

পুতিনের এক মেয়েও টিকাটি নিয়েছেন বলে খবর বের হয়।

দ্রুত টিকা অনুমোদন দেওয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে—তৃতীয় ধাপে বা চূড়ান্ত ধাপে কয়েক মাস ধরে হাজারো মানুষের ওপর টিকাটি পরীক্ষা না করা।

নিউজউইক এক প্রতিবেদনে বলেছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেও টিকা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অবশ্য তিনি কবে টিকা গ্রহণ করবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি।

গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে পুতিন বলেন, সিউল সফরের আগে তিনি টিকা গ্রহণ করবেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত