বৃহস্পতিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণ: যেভাবে গ্রেপ্তার আরেক আসামি মাহফুজ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

রাতের বেলা লুঙ্গি পরে পালাতে গিয়ে গোয়েন্দা জালে গ্রেপ্তার হয়েছেন সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি।

সোমবার রাত ১২টার দিকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয়ে কানাইঘাট থানা-পুলিশ জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর থেকে মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে আত্মীয়ের বাড়িতে মাসুম আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখান থেকে রাতের বেলা লুঙ্গি পরে পালাতে গিয়ে গোয়েন্দা জালে আটকা পড়েন। মাহফুজকে মঙ্গলবার মহানগরের শাহপরান থানায় হস্তান্তর করার পর আদালতে হাজির করা হতে পারে।

মাহফুজুর রহমান এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্মাতক (সম্মান) শ্রেণির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রাবাসে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর মধ্যে তিনিই একমাত্র নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাঁর নামে ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ ছিল। তবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় সিটটি কলেজ কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছে। মাহফুজের বাড়ি সিলেটের সীমান্ত উপজেলা কানাইঘাটের দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামা-দলইকান্দি গ্রামে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানসহ একই দিন চারজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাহফুজ ও তারেককে ধরতে তৎপর ছিল পুলিশের একাধিক দল। এর সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতাও ছিল। এলাকায় আছেন—এমন তথ্যে সোমবার থেকে কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও জৈন্তাপুর এলাকায় তৎপরতা চালানোর একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যে খবর পেয়ে হরিপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাহফুজ পরনের লুঙ্গি ছিল। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে এই বেশ ধরেছিলেন। তবে তাঁর গন্তব্য কোথায় ছিল—এ বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

মাহফুজ গ্রেপ্তারের মধ্যে দিয়ে এ নিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি আছেন শুধু তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক। সন্দেহভাজন দুজনসহ মামলায় মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা ৭।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ২০ বছরের এক তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন বখাটে তরুণী ও তার স্বামীকে জোরপূর্বক কলেজ ছাত্রাবাসে তোলে নিয়ে যায়। পরে স্বামীকে গাড়িতে আটকে রেখে ৫/৬ জন মিলে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলা ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, অর্জুন লস্কর ও বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা তিনজনকেও আসামি করা হয়।

এ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলামকে ৫ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বেলা ১২ টায় প্রথমে সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে বেলা ৩ টায় মামলার অপর আসামি রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময়ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাইফুরকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে পৃথক এক অভিযানে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা থেকে অর্জুন লস্করকেও গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব আর নবীগঞ্জ থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজন নামের ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯। এসময় রাজনকে সহযোগিতায় করায় আইনুদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। এ দুজনকেও আলোচিত এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত