মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় ৫ আসামি গ্রেপ্তার

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজন আহমদ (২৮) নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জের কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৯ এর একটি দল। এ সময় রাজনকে পালাতে সহযোগিতা করায় আইনুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।

র‌্যাব ও ডিবি সূত্রে জানায়, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ মামলার রাজন নামের আরেক আসামি ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকা তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন, এমন খবরে অভিযান চালানো হয়। পরে রাত ১টার দিকে রাজন ও তার সহযোগী আইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে সিলেট নিয়ে আসা হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রবিউল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বড় নগদী গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বলেন, রবিউল ধর্ষণ মামলার ৫ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি। তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় এ মামলার আরেক আসামি মাহবুবুর রহমান রনিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। একই সময়ে মামলার অন্যতম আসামি রবিউল হাসানকে নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ছাড়া রোববার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক খেয়াঘাট এলাকা থেকে গণধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর আরেক আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয় হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা থেকে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ৬-৭ জন নেতাকর্মী। এরপর দুজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত