রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বিএনপির শূন্য পদ পূরণ কাউন্সিলের আগে নয়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

পদত্যাগ, বহিষ্কার, পদোন্নতি ও মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণের ব্যাপারে তেমন তাড়া নেই বিএনপির। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদগুলো জাতীয় কাউন্সিলের আগে পূরণ হচ্ছে না। সুতরাং এসব পদের জন্য যারা দৌড়ঝাঁপ করছেন, তাদের কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

দলীয় সূত্রমতে, এই মুহূর্তে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হয়েছে ৩০টি পদ, পদত্যাগজনিত কারণে ফাঁকা হয়েছে ৯টি পদ, পদোন্নতির কারণে ফাঁকা হয়েছে পাঁচটি পদ এবং বহিষ্কারজিনত কারণে শূন্য হয়েছে একটি পদ। দলের এসব শূন্য পদ পূরণের ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ অনুভব করছে না বিএনপি।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৩ থেকে বাড়িয়ে ১৯ করা হয়। মৃত্যু ও পদত্যাগজনিত কারণে এই মুহূর্তে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫। অর্থাৎ এখানে শূন্য রয়েছে চারটি পদ। তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে শূন্য হয় তিনটি পদ এবং রাজনীতি থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান অবসর নেওয়ায় শূন্য হয় একটি পদ।

সব শেষ তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ছয়টি ‘ভাইস চেয়ারম্যান’ পদ ফাঁকা রয়েছে। সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল মান্নান ও ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হয় তিনটি পদ। এম মোর্শেদ খান ও মোসাদ্দেক আলী ফালু দল থেকে পদত্যাগ করায় ফাঁকা হয় দুইটি। আর ইনাম আহমেদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করায় শূন্য হয় আরেকটি পদ।

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর গত সাড়ে চার বছরে দলটির চেয়ারপারসনের ৯ জন উপদেষ্টা মারা গেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন— ফজলুর রহমান পটোল, হারুন-অর রশীদ খান মুন্নু, আখতার হামিদ সিদ্দিকী, জাফরুল হাসান, নূরুল হুদা, কবির মুরাদ, সঞ্জীব চৌধুরী, ওয়াহিদুল ইসলাম ও এম এ হক। মৃত্যুজনিত কারণে ফাঁকা হওয়া এ ৯টি শূন্য পদের একটিও পূরণ হয়নি।

নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু সাইদ খোকন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের মৃত্যুতে সম্পাদকমণ্ডলীর পাঁচটি পদ শূন্য হয়েছে। এ পদগুলোতেও নতুন লোক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কবে নাগাদ করা হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে শফিউল বারী বাবু, আহসান উল্লাহ হাসান, আবুল কাশেম চৌধুরী, এ এফ এম ইকবাল, মোজাহার হোসেন, মোজাহার আলী প্রধান, কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিশ, সরোয়ার আজম খান, কাজী আনোয়ার হোসেন, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, চমন আরা, এম এম মতিন, এম এ মজিদ, মিয়া মোহাম্মদ সেলিম, কাজী সেকান্দার আলী ডালিমের মৃত্যুতে ফাঁকা হয়েছে ১৫টি পদ।

এছাড়া কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনির খান, সহঅর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আসগর লবী ও সদ্যপ্রয়াত ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল পদত্যাগ করায় বিএনপির আরও পাঁচটি পদ শূন্য হয়।

দলীয় সূত্রমতে, এই ৪৫টি শূন্য পদের জন্য বিএনপির কয়েকশ নেতা অধীর আগ্রহে বসে আছেন। যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করছেন পছন্দের পদে নিজেকে আসীন করতে। কিন্তু এই মুহূর্তে এসব শূন্য পদে লোক অন্তর্ভুক্ত করার কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই বিএনপির। এ ব্যাপারে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনাও নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলের শূন্য পদ পূরণ বোধ হয় সম্ভব হবে না। পরিবেশ পরিস্থিতি যদি বদলায়, তাহলে কাউন্সিলের পর নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। আপাতত শূন্য পদগুলো শূন্যই থাকছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত