শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

এমসি কলেজে গণধর্ষণ : প্রধান আসামি সাইফুরসহ গ্রেপ্তার ২

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাইফুর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এবং অর্জুন ৪ নম্বর আসামি।

আজ রোববার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক খেয়াঘাট এলাকা থেকে সাইফুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারে উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর অর্জুনকে আজ ভোর ৬টায় হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাইফুরের বাড়ি বালাগঞ্জ ও অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে। ধর্ষণের ঘটনার পর অর্জুন পালিয়ে যান হবিগঞ্জের মাধবপুর। সেখানে মনতলা এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থা নিয়েছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্জুনের অবস্থান শনাক্ত করে রোববার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করে যাচ্ছিল। ভোররাতে ছাতক থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

গ্রেফতার সাইফুর রহমান সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সোনাপুরের চান্দাইপাড়ার মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে। তিনি অস্ত্র মামলারও আসামি। ঘটনার দিন রাত ৩টার দিকে এমসি কলেজের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা ও একটি চাকু, দুটি লোহার পাইপ, প্লাসসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করে পুলিশ।

এর আগে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী।

এম সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। তাদের মধ্যে চারজন ওই কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকার যোগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে আসেন ওই তরুণী। সন্ধ্যা হয়ে এলে ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের ছয় কর্মী মিলে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। খবর পেয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত