বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না, এটিই শেখ হাসিনার নির্দেশ: কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

অপরাধী যেই হোক সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোথাও কোনো বাধা দেয় না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিলেটের ঘটনার ব্যাপারেও বলতে চাই, সরকারের অবস্থান, শেখ হাসিনা অবস্থান এখানে অত্যন্ত কঠোর। কোনো অবস্থাতে অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে এটিই শেখ হাসিনার নির্দেশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

পাবনা উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপির নির্বাচন বয়কটের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে প্রচার না চালিয়ে পোলিং এজেন্ট না দিয়ে, মাঠে না থেকে অভিযোগের পর অভিযোগ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিএনপির সেই পুরনো কৌশল আজকে তারা আবার কাজে লাগাতে চেয়েছে। সেই পুরনো কৌশল আবারও প্রমাণ হয়েছে মরচে ধরে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আর বিএনপির মিথ্যাচারে বিশ্বাস করে না। দলের কর্মীরা নির্বাচন করতে চাইলেও নেতারা দিচ্ছেন না। তারা জনগণের মনের কথাই তো বোঝেন না, দলের কর্মীদের মনের কথাও বুঝতে পারেন না। লোক দেখানো অংশগ্রহণে বিএনপির তৃণমূলে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর ক্ষুব্ধ। নির্বাচনে হারার আগেই হেরে দাম্ভিক বৃত্ত থেকে বিএনপি এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। স্বতস্ফূর্তভাবে জনগণের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ, আমরা স্বাভাবিকভাবে উপনির্বাচনে এতো টার্নআউট কখনো লক্ষ্য করিনি যেটা ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ভোটাররা দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের মানুষের আস্থা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।’

বিএনপি নেতারা বিরামহীনভাবে তাদের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলার ও কারান্তরীণ করছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। আমরা মনে করি, এই অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির চিরাচরিত মিথ্যাচার। বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে কোন জেলা পর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, জেলে দিয়েছে। আপনি বলুন মহাসচিব সাহেব।

‘সরকার দমননীতিতে বিশ্বাস করে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করছে। নিজের দলের নেত্রীকে জেলে রেখে পাঁচটা নেতাকর্মীকে রেখে একটা মিছিল আপনারা করতে পারেন না, সেখানে বেগম জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা রাজনীতিতে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেটি কি আপনারা ভুলে গেছেন? শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ না থেকে অবিরাম মিথ্যাচারের ফানুস উড়াচ্ছে বিএনপি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুলের আটকে পড়া গরুর গাড়ির মতো বিএনপির রাজনীতি এখন মিথ্যাচারের চোরাবালিতে আটকে আছে। দেশের আইন নিজস্ব গতিতে চলছে। বিচার বিভাগের উপরও সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। সরকার নিজের দলের কর্মীদেরও অপকর্মের জন্য শাস্তি দিতে এতোটুকুও কুণ্ঠিত নয়, সেটা বারবার ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। দেশের মানুষ দেখেছে নিজ দলের সমর্থক বা নেতারাও অপরাধী হলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোথাও কোনো বাধা দেয়নি। সিলেটের ঘটনার ব্যাপারেও আমি একই কথা বলতে চাই, সরকারের অবস্থান, শেখ হাসিনা অবস্থান এখানে অত্যন্ত কঠোর। কোনো অবস্থাতে অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে এটিই শেখ হাসিনার নির্দেশ।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমতুল্লাহ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং উপ কমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দী।

আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ কিউ এম মাহবুব এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মো. মফিজুর রহমান।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত