শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়ে গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ (দ্বিতীয় ঢেউ) শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বুধবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আধুনিকায়ন, উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষার সম্প্রসারণমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় চিকিৎসক- নার্সসহ স্বাস্থ্যবিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।’

শীতকালে বিয়ে ও পিকনিকসহ নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনসমাগম বেশি হওয়ায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে বিরত থাকতে হবে।’ এ সময় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চল‌া ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাহিদ মালেক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মহিবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম খুরশিদ আলম, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবু ইউসুফ ফকির, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ খান মো. আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঐতিহ্যবাহী একটি হাসপাতাল। আজকে এখানে ২৩টি ইউনিট একসঙ্গে উদ্বোধন করতে সক্ষম হয়েছি। যারা এর পেছনে পরিশ্রম করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এই ইউনিটগুলোর জন্য হাসপাতালটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে, এর ফলে রোগীরা আরও ভালো সেবা পাবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেক আগেই এই হাসপাতালে ইউনিটগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু ডেঙ্গু ও করোনাভাইরাসের কারণে আটকে গিয়েছিল। মুজিববর্ষে এই ২৩টি নতুন ইউনিট উদ্বোধন করতে পেরে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও অনুপ্রেরণায় এটি সম্ভব হয়েছে। তার চেষ্টায় স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল পাঁচ হাজার বেডে উন্নতিকরণের কাজও শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এতো জনবহুল দেশেও করোনা রোগীদের চিকিৎসায় একটি উদাহরণ সৃষ্টি হরেছে। বলা হয়েছিল সেপ্টেম্বরে আমাদের দেশে হাজার হাজার রোগী মারা যাবে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য এমন কিছুই হয়নি। আমাদের দেশে করোনা রোগীর সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী সেবা পায়নি এমন নজির নেই। অন্যান্য দেশের মত কোনো রোগীকে তাবুতে থাকতে হয়নি। আমার দেশের চিকিৎসা প্রটোকল বিশ্বমানের হওয়ায় হাজার হাজার লোক বেঁচে গেছে। তাই চিকিৎসক, নার্সসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সবার প্রচেষ্টার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভ্যাকসিন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। যে দেশের ভ্যাকসিন সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর হবে আমরা সেই দেশ থেকেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লকডাউন একটি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আবার লকডাউনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি যেখানে আছে সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তাদের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। করোনায় যারা মারা গেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। অধিদফতর চেষ্টা করে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোভিড ও নন কোভিডসহ সব সব ধরনের সেবা চালু করতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবগুলো কাজ এগিয়ে চলছে।আমরা আশা করছি সব সমস্যাকে আমরা প্রতিহত করে এগিয়ে যেতে পারবো।

নতুন ২৩ টি ইউনিট হলো- ২০ শয্যা বিশিষ্ট জেরিয়াট্রিক ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা ), CBRN (Chemical, Biological , Radiological and Nuclear ) & Mass Casualty Management Centre (৭০ শয্যা বিশিষ্ট ) , স্পেশালাইজড পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ড ও এইচডিইউ, পেডিয়াট্রিক এন্ডােসকপি, কলন্সকপি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম , আন্ট্রাসাউন্ড সেন্টার, ১৫ শয্যার পেডিয়াট্রিক সার্জারী ইউনিট, পেডিয়াট্রিক আইসিইউ,পেডিয়াট্রিক ডায়ালাসিস ইউনিট, শিশু ডায়াবেটিক ক্লিনিক, নিউরােক্যাথ অপারেশন থিয়েটার , ইনফারলিটি এন্ড আইভিএফ সেন্টার, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ওটি এবং এন্ড্রোসকপি সার্জারী ওটি, প্রেসিডিউর রুম, প্লাজমা থেরাপি সেন্টার, আরটিপিসিআর ও জিন এক্সপার্ট মেশিন স্থাপন, সিটি সিমুলেটর ও এক্সরে মেশিন, কার্ডিয়াক সেমিনার কক্ষ ও লাইব্রেরী, নিউরােসার্জারী ও অর্থোপেডিক্স সার্জারী সেমিনার কক্ষ, ইমার্জেন্সী কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন, হাসপাতাল সেন্ট্রাল সাউন্ড সিস্টেম, সেন্ট্রাল অটোমেশন সিস্টেম (আংশিক) , হাসপাতালে যানবাহন এলাকার সম্প্রসারণ ও সংস্কার, ওয়্যারলেস সিকিউরিটি সিস্টেম (Wireless Security Person) আনসার ব্যারাক, আউটডাের কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের (নির্মাণাধীন) কাজ শেষ করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার পরিধি আরও অনেক বাড়বে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত