শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

‘আমার তো ৭৪ বছর বয়স, আর কতদিন! সেটাও মাথায় রাখতে হবে’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশটা শুধু বর্তমান না, নতুন প্রজন্মের জন্য কীভাবে এগিয়ে যাবে, কীভাবে চলবে, সেটাই এখন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে রাখব। যেন যারাই ভবিষ্যতে আসুক তারাই এগিয়ে নিতে পারে। কারণ, আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। আমার তো ৭৪ বছর বয়স, আর কতদিন! সেটাও মাথায় রাখতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকের শুরুতে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভার পর এই প্রথম দলের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হলো। সভায় সভাপতিমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে আমরা মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছি। বাজেটের ডেফিসিটি আমরা ৬ শতাংশ ধরেছিলাম। এখানে আমার সিদ্ধান্ত ছিল, দরকার হলে ১০ শতাংশ ধরবো। কিন্তু সেটা আমাদের লাগেনি। ৬ শতাংশের মধ্যে রেখেই আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পেরেছি। কারণ, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার একটা ইকোনমিক পলিসি আছে, সেটাকে মাথায় রেখেই আমরা কিন্তু কাজ করে যাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পার্টির যে পলিসি সেটাকে মেনেই কিন্তু সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে ২০১০ সালে আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০। এখন আমরা ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেটাও আমরা গ্রহণ করেছি।’

বাংলাদেশ হচ্ছে একটা ডেল্টা বা বদ্বীপ। এই বদ্বীপের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, এই নদী ড্রেজিংয়ের কথা সব সময় বলে আসছি। একটা সময় ছিল, আমি আর বোধহয় মতিয়া আপা ছাড়া আর কেউ ড্রেজিংয়ের কথা বলতোই না। অনেক বিশেষজ্ঞরাও এটা নিয়ে তখন প্রশ্ন তুলতো। কিন্তু এখন আবার প্রত্যেকে আমাদের পথে আসছে। এখন সেই বিশেষজ্ঞরাও বলে যে, ড্রেজিং-ই একমাত্র উপায়।’

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আমাদের নদীগুলো ভাঙছে। এতে নদীগুলোরই ক্ষতি হচ্ছে। নদীগুলোকে বাঁচানো দরকার। আমরা ডেল্টা প্ল্যান করেছি। ডেল্টা প্ল্যানের একটাই লক্ষ্য, আমাদের যতগুলো বড় নদী আছে সেগুলোকে ড্রেজিং করে নাব্যতা বজায় রেখে এই বদ্বীপটা রক্ষা করা এবং সুরক্ষিত করা। দেশের মানুষকে কীভাবে সুন্দরএকটা জীবন দেওয়া যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নটা ত্বরান্বিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি, বাস্তবায়ন করছি।’

‘হ্যাঁ, এটা ঠিক আমরা যা করছি, সময়ের বিবর্তনে সেটা কিন্তু সংশোধন করতে হবে। পরিবর্তন করতে হবে, পরিশোধন করতে হবে। এটা করতে হবে, এটা নিয়ম। সেটাও আমরা জানি। কিন্তু তারপরও একটা ফ্রেমওয়ার্ক একটা ধারণাপত্র অথবা একটা দিকনির্দেশনা দরকার। সেটা যদি সামনে থাকে তাহলে যারাই আসুক ভবিষ্যতে তারাই যেকোনো কাজ খুব সহজে করতে পারবে। কারণ আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। আমার তো ৭৪ বছর বয়স, আর কতদিন! সেটাও মাথায় রাখতে হবে’— বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছে-এসডিজি-২০৩০। সাসটেইনবেল ডেভলপমেন্ট গোল অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নটা একটা স্থিতিশীল উন্নয়ন হবে। সেখানে যে ধারাগুলো আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জন করেছিলাম; এসডিজি বাস্তবায়নেও আমাদের সাফল্য আসবে।’

‘করোনার কারণে আমাদের এ কাজগুলি একটু শ্লথ হয়ে গেছে এটা ঠিক। কিন্তু আমরা মনে করি এই দারিদ্র্য যেন আবার মানুষকে গ্রাস করতে না পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিচ্ছি। পাশাপাশি একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আর্থিকভাবে মানুষ যেন চলতে পারে তার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। এই কারণে কোনোভাবে সাধারণ মানুষের যেন কষ্টটা না হয়।

তিনি আরো বলেন, কৃষকদের বিশেষ আমরা আলাদা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়ে দিয়েছি। সেখানে কৃষক যেন তার কাজ করতে পারেন। সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। এদেশের কৃষক, শ্রমিক এদেশের সাধারণ মানুষ, এমনকী চাকরিজীবী বা আমাদের সব ধরনের মানুষের কথা বিবেচনা করেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত