শুক্রবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং

টেন্ডারবাজি ও দূর্নীতি বন্ধ করায় গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি মহল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেন্ডারবাজি, বদলী বানিজ্যসহ নানা অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। এতে অধিদপ্তরের অধিকাংশ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা কর্মচারিরা খুশি হলেও ক্ষুব্দ হয়েছে একটি মহল। তাছাড়া সম্প্রতি দূর্নীতির কারণে আলোচিত জিকে শামীমের জেকেবি এন্ড কোম্পানির ১৭ টি প্রকল্পের কাজ চূড়ান্তভাবে বাতিল করে দেয় গণপূর্ত অধিদফতর। একারনে ঠিকাদারদের একটি গ্রুপও ক্ষুব্দ হয়েছেন প্রধান প্রকৌশলীর ওপর। এই ক্ষুব্দ মহল সম্প্রতি প্রধান প্রকৌশলীর নামে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রধান প্রকৌশলীর নামে দুর্নীতির বেনামী অভিযোগ করে তার নামে বিভিন্ন ভূইফোঁড় অনলাইন ও পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থার প্রকৌশলীরা। সাম্প্রতিক সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এর প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম কে নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ভুল সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও রুয়েট ছাত্রলীগ অ্যালামনাই অ্যসোসিয়েশন। এছাড়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ পারভেজ খাদেম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদে দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। এমনকি তাকে দুদকের নোটিশ প্রদানের বিষয়টিও সঠিক নয়। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব মিথ্যে অভিযোগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র কেউ দেখাতে পারেনি এবং বানোয়াট সংবাদের নুন্যতম প্রমান ছাড়াই ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার সকল যাচাই-বাছাই শেষে সততা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও লবিং-তদবিরের প্রশ্নই আসে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের চাকরিকালীন তার আওতাধীন দফতরের কোনো ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়ায় জি কে শামীমের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বরং তিনি প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদফতরের ১৭টি দরপত্র থেকে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রকৌশলীরা জানান, কর্মজীবনে আশরাফুল আলম অত্যন্ত মেধাবী ও সৎ একজন কর্মকর্তা। তাঁর চাকুরি ও কর্মকাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যতম অবদান রাখায় হজ্জব্রত পালন করার সুযোগ প্রদান করেন। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবেও দক্ষতা, জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কোনো ব্যক্তি বিশেষ কিম্বা গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ ও মনমানসিকতার কর্মকর্তা তিনি নন। প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “আমার জীবনযাত্রায় এমন কোনো অতিরিক্ত চাহিদা নেই যে আমাকে আমার সুনাম বিক্রি করে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে হবে। দুর্নীতি আমার কাজে-কর্মে একশ ভাগ অনুপস্থিত।

অভিযোগকারী কোনোরূপ তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ঢালাওভাবে অভিযোগ করায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।”এছাড়াও প্রকাশিত মিথ্যে সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন গণপূর্তের সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারিবৃন্দ ও ঠিকাদার৷ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ১৫ তম বিসিএস (পাবলিক ওয়ার্কস) ক্যাডারের মেধাতালিকায় প্রথম হয়ে ১৯৯৫ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ২০০৭ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১, মেডিকেল কলেজ ডিভিশন, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল এবং রংপুর গণপূর্ত জোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি চাকুরি ক্ষেত্রে অনেক সুনাম অর্জন করেন। তিনি গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণর্পূত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও সৎ একজন কর্মকর্তা। তাঁর চাকুরি ও কর্মকাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যতম অবদান রাখায় হজ্জব্রত পালন করার সুযোগ প্রদান করেনএবং গতবছর তিনি হজ্ব পালন করেন। এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সকল উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এবং যতই বাঁধা ও ষড়যন্ত্র হোক তিনি দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এর প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম কে নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ভুল সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও রুয়েট ছাত্রলীগ অ্যালামনাই অ্যসোসিয়েশন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান এর স্বাক্ষরিত লিখিত বিবৃতিতে তারা জানান সম্প্রতি কয়েকটি মাধ্যমে প্রকাশিত গণপূর্ত অধিদপ্তর এর প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম এর রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিচয় উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রুয়েট শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করে আসছেন। তাই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সকল সদস্য এসব মিথ্যা প্রচারণায় ভীষণভাবে আহত হয়েছেন। তারা বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করেন এমন একজন সৎ ও সফল প্রকৌশলী জনাব আশরাফুল আলমের সাথে আছেন সর্বদা। তারা বলেন যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাদের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

এদিকে রুয়েট ছাত্রলীগ অ্যালামনাই অ্যসোসিয়েশনের আহবায়ক প্রকৌশলী কাজী আনোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো: হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতেও তারা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত মিথ্যে সংবাদের প্রতিবাদ করেন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জনাব মোঃ আশরাফুল আলমকে নিয়ে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদ করে তারা বলেন প্রকৌশলী জনাব আশরাফুল আলম রুয়েট ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন এবং ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রুয়েট শাখার সহ সভাপতির

দায়ীত্ব পালন করেন। জামাত শিবিরের দূর্গ হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর বুকে তৎকালীন সময়ে তিনি জীবনের ভয় না করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রুয়েট ছাত্রলীগের হয়ে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন । একারণে তিনি পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের প্রতিহিংসার শিকারও হয়েছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুয়েট ছাত্রলীগের প্রতিটি প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মী পাশে রয়েছেন। স্বাধীনতাবিরোধী দুষ্কৃতিকারীদের যেকোনো ষড়যন্ত্র তারা রুখে দিতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শতভাগ স্বচ্ছতায় দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিশ্চিত করেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন স্তরের সিন্ডিকেট ভেংগে দেন। এতে করে অনেক অসাধু সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারের স্বার্থে আঘাত লাগে, ফলে যারা এতদিন অন্যায়ভাবে কালো টাকার পাহাড় গড়েছিল তারা প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতা ও টাকা দিয়ে অপপ্রচার করতে থাকে। এছাড়াও আশরাফুল আলম গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারের অনেক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়,অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে দ্রুততার সাথে এগিয়ে যায়। করোনাদূর্যোগেও প্রধান প্রকৌশলীর সঠিক, সাহসী ও অগ্রণী ভুমিকার প্রশংসা হয় দেশব্যপী। বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় বর্তমানে কাজের পরিবেশ অনেক ভাল। তারা প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপপ্রচার টিকবে না ও সত্যের জয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত