সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

অপরাধী যদি দলের লোকও হয় তাকে ছাড়ি না, এটা আমার নীতি: শেখ হাসিনা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি আগেই বলেছি, অপরাধী আমার চোখে অপরাধী। যেকোনো দল, কে কি, আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়ব না। এটা হল আমার নীতি এবং সেই নীতি নিয়ে আমি চলছি।’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা একথা বলেন। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সম্পূরক প্রশ্ন করেন।

প্রশ্নকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলছেন, অতীত নিয়ে টেনে কথা বলি কেন? অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই আগামী দিনের চলার পথ নির্দিষ্ট করতে হয়। তা না হলে শিক্ষা হয় না। যেকারণেই অতীততে স্মরণ করতে হয়। এখানে অতীত নিয়ে কথা না, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কথা আমি বলেছি। সেই ঘূর্ণিঝড়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা তো আমরা দেখেছি। কত অবহেলার শিকার ছিল এদেশের মানুষ। ঠিক সত্তরে ঘূর্ণঝড় হওয়ার পর মানুষ যেরকম মানুষ অবহেলিত ছিল। সেই সময়ে আমরাই আগে সেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। তারপর তাদের সরকার গিয়েছিল। সরকার তো ঘুমাচ্ছিল। আর এই সংসদে বলেছিল। যত মানুষ মরার কথা ছিল, তত মানুষ মরে নাই। এটা ছিল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল। এটা হল দুর্ভাগ্য। আমি এটাই বলবো, অতীতকে স্মরণ করতে হবে তো, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।‘

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে ইউএনও’র যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা কিন্তু তদন্ত করে দোষীদের কিন্তু গ্রেফতার করাও হয়েছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং সেটা আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, আসলে বিষয়টা কি?’

‘শুধু চুরি না, এর সঙ্গে আরও কি কি ঘটনা থাকতে পারে। সেগুলো কিন্তু যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে এবং তাকে হেলিকপ্টারে করে সাথে সাথে নিয়ে আসা, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সব ধরনের ব্যবস্থা কিন্তু আমরা করেছি। সেই সাথে আমি আগেই বলেছি, অপরাধী আমার চোখে অপরাধী। যে কোনো দল, কে কি, আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন।‘

‘প্রথম কথা আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসাবেই দেখি। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়ব না। এটা হল আমার নীতি এবং সেই নীতি নিয়ে আমি চলছি। আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসাবে বিবেচনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে যারা ধরা পড়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও তদন্ত করা হচ্ছে যে এই ঘটনার মূলে কি আছে? কেন এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটল?’

‘করোনাভাইরাসের সময় আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রশাসন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ আনসার ভিডিপি এবং আমাদের দলের নেতাকর্মী; প্রত্যেকেই আন্তরিকতার সাথে মাঠে কাজ করেছে। আমাদেরও তো বহু নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে গিয়েছে, অনেকে মারা গেছে। কিন্তু তারা রাত দিন পরিশ্রম করেছে, মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানোর।’

‘আমাদের একটার পর একটা ধাক্কা আসল। করোনাভাইরাস এই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে সেই ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ২৪ লাখ লোক সরিয়ে আমরা তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আম্পানের ধাক্কা না কাটতেই আসল বন্যা। সেই বন্যা মোকাবিলা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ত্রাণ দেওয়া, তাদের সাহায্য করা এটা কিন্তু সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে করেছে। করার ফলে আমরা সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছি। আজকে করোনাভাইরাস থেকেও আমরা আস্তে আস্তে নিশ্চয়ই এখান থেকেও মুক্তি পাব। এটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা, এখানেই না। যারা এত আন্তরিকার সঙ্গে কাজ করেছে, তাদেরকে এইভাবে আঘাত করা এটা তো কখনো গ্রহণযোগ্য না।’

সংসদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা কিন্তু ইতোমধ্যে অপরাধী শনাক্ত করা বা যাদেরকে ধরা হয়েছে এবং এর পিছনে তাদের সঙ্গে আরও কারা কারা আছে, কাদের মদদ করেছে, সেটাও কিন্তু তদন্ত করা হচ্ছে। এটা খুব ভালোভাবেই তদন্ত হচ্ছে, তদন্তে কোনো ঘাটতি নেই এবং ঘাটতি হবে না। অপরাধী ঠিকই শাস্তি পাবে, সে ব্যবস্থা করবো। অন্তত এইটুকু বলতে পারি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি এটাও বলবো যে, আমাদের কেউ যেন, আপানারা মাননীয় সংসদ সদস্যরাও, যারা সদস্য আছেন, সংসদ সদস্যদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—মাননীয় সংসদ সদস্যরাও যেন এই ধরনের অপরাধীদের কখনো রক্ষা করার চেষ্টা না করেন। অপরাধ যে করে, আর অপরাধীদের রক্ষা করে সমানভাবেই তারা দোষী।’

সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার করা এক সম্পূরক প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথাটা তো একেবারে বাস্তব যে ঘরে ঘরে, বেডরুমে বেডরুমে কেউ পাহারা দিতে পারে না। কিন্তু তারপরেও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সব সময় সজাগ রয়েছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন একজন ইউএনওর যে ঘটনাটা ঘটে গেছে, ওয়াহিদার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বাড়ির ভেতরে ঢুকে এভাবে আক্রমণ করা বা হাতুড়ি দিয়ে পেটানো…চোর ঢোকে চুরি করতে.. কিন্তু এভাবে একটা সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা করা, এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, একটা কথা আপনারা জানেন যে, এই বাংলাদেশে কী ঘটনাটা ঘটেছে…পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টে ঘরে ঢুকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে…তিনি তো রাষ্ট্রপতি ছিলেন…গোটা পরিবারকে হত্যা করেছে… এবং সেই খুনিদের ইনডিমিনিটি দিয়ে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করেছে। যারা এত বড় ক্রিমিনাল, এই ধরনের খুনি, ক্রিমিনালদের যখন প্রশ্রয় দেয়া হয়, মানসিকভাবে সেই দেশের মানুষের কী রকম চরিত্র হতে পারে সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখান থেকে একটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসা, অন্যায়কারী… তাদের বিরুদ্ধে যেন শাস্তি হয়, বিচার হয় এটাই তো সব থেকে বড় কাজ। ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। সেই ঘটনার সাথে সাথে আমরা সরকারপক্ষ থেকে যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি কি-না সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। সে কারণে আমরা যখনই যেখানে যে ঘটনা ঘটে, যারা জড়িত, তদন্তে যার নাম আসবে, যে জড়িত, সে কে, কী করে- আমি সেটা দেখতে চাই না। আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিন্তু নিচ্ছি এবং আমরা এটা নেবো।

তিনি বলেন, সেটা আমরা করে যাচ্ছি। এটা সকল ক্ষেত্রে। এর বেশি আর কিছু বলার নেই। কারণ, যে দেশে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয় দূতাবাসে চাকরি দিয়ে। যে দেশে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। এ রকম অবস্থা ছিল সেই দেশটাকে ডিসিপ্লিনের ফিরিয়ে আনা, সেই দেশটাকে নিয়মমাফিক চালানো খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমরা সরকারে আসার পর থেকে পালন করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে পাঁচশটা বোমা হামলা হয়েছে। প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারীরা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। এই ধরনের বহু ঘটনা আমাদের দেশে ছিল। কিন্তু আমরা তো আস্তে আস্তে সেগুলো একটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। তারপরও এত জনসংখ্যা, এত ঘনবসতির একটা দেশে খুব কঠিন একটা কাজ। তারপরও আমরা কিন্তু করে যাচ্ছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা যথেষ্ট সক্রিয় আছে। যখনই যে ঘটনা ঘটে আমরা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত