শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

‘হামলাকারীরা বারবার ওয়াহিদার কাছে আলমারির চাবি চেয়েছে’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার বিষয়ে মুখ খুলেছেন, তাঁর আহত বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ। হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সেই হামলার ঘটনা তুলে ধরেন ইউএনও’র বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ।

তিনি জানান, বাসায় ঢুকে হামলাকারীরা বারবার ওয়াহিদা খানমের কাছে আলমারির চাবি চেয়েছে। চাবি না দিলে তার ৪ বছরের সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল হামলায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি।

গত বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় নিজের সরকারি বাসভবনে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীও গুরুতর আহত হন। ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও তার বাবা রংপুরে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করেছে, র‌্যাব ও পুলিশ। পৃথক পৃথকভারে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় সন্দেহভাজন প্রধান আসামি আসাদুল হককে (৩২) দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের চুড়িপট্টি এলাকা থেকে র‌্যাব আটক করে।

এর আগে, ঘোড়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীর (৩৬) ও মাসুদ রানা (৩৪) নামে আরও দু’জনকে আটক করে আইনশৃংখলা বাহিনী। জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং মাসুদ ঘোড়াঘাট সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। এছাড়া বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ ইউএনও’র বাসভবনের নৈশ্য প্রহরী পলাশকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম এর আগে আসাদুল ও জাহাঙ্গীরকে আটক করার কথা স্বীকার করলেও এখন এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাইছেন না। তিনি জানান, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা ঘটনায় তার ভাই ফরিদ শেখ ঘোড়াঘাট থানায় গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টায় একটি মামলা করেছেন। তবে মামলায় কারো নাম উল্লেখ নেই।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত