শনিবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরেই টিকা দেওয়ার তোড়জোড়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

এ বছরের মধ্যেই করোনার টিকার সম্ভাবনার ওপর জোর দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি এখন অজ্ঞাত ‘টিকা-এ’ এবং ‘টিকা-বি’ নিয়ে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির তুলে ধরতে রূপরেখা তৈরি করেছে।

সিডিসির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ৫টি বড় শহরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের করোনার টিকা বিতরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে। অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ টিকা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস ঠেকাতে সিডিসির নতুন নীতিমালা করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির দৌড়ে গতি আসার হালনাগাদ চিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দিন রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলনে এ বছরের আগেই করোনার টিকা আসবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সে দিনই সিডিসির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের টিকা বিতরণের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

গত সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান স্টেফিনে হান একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপের মানুষের জন্য করোনার টিকা সহজলভ্য হবে। তবে, এ ক্ষেত্রে টিকা পরীক্ষার ফল অত্যন্ত ইতিবাচক হতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একমত যে সরকারের সব স্তরের সংস্থার জরুরি ভিত্তিতে কোটি কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার বিশাল ও জটিল প্রক্রিয়া কেমন হবে, এ জন্য প্রস্তুত করা উচিত। তবে অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের টিকা দেওয়ার তড়িঘড়ি চেষ্টা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আলোচনা সৃষ্টির জন্য এ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সিডিসির পক্ষ থেকে টিকা বিতরণের জন্য নির্দিষ্ট দুটি টিকা নির্বাচন করা হচ্ছে। এ টিকা দুটিকে ‘টিকা-এ’ ও ‘টিকা-বি’বলা হচ্ছে। এসব টিকার চাহিদা, পরিবহন, সংরক্ষণসহ কারিগরি নানা বিষয়ে নীতিমালার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। তারা যে বর্ণনা দিয়েছে, তাতে এ টিকা দুটি সম্ভবত ফাইজার ও মডার্নার টিকা হতে পারে। এ দুটি টিকা এখন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

গত ২০ আগস্ট ফাইজার জানিয়েছিল, তারা অক্টোবরের শুরুতেই সরকারি অনুমোদনের পথে রয়েছে।

সিডিসির নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সীমিত কোভিড-১৯ টিকা নভেম্বরের শুরুতে সহজলভ্য হতে পারে। গত ২৭ আগস্ট সিডিসির পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড নীতিমালাসংক্রান্ত নথি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পাঠান। এ ছাড়া গভর্নরদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ১ নভেম্বের মধ্যে টিকা বিতরণের স্থান প্রস্তুতের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়।

ফাইজার ও মডার্নার পক্ষ থেকে টিকা বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এ দুটি টিকা যথেষ্ট নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে এফডিএর অনুমোদন পেতে পারে অক্টোবর নাগাদ। এর মধ্যে ‘টিকা-এ’ হিসেবে ফাইজার নভেম্বরের মধ্যে ২০ লাখ এবং ‘টিকা-বি’ হিসেবে মডার্না ১০ লাখ ডোজ তৈরি করে ফেলতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, গত মাসের শুরুর দিকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেভাগেই টিকা আনার কথা বলেন। করোনার টিকা আসার সময় নিয়ে হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা যে পূর্বাভাস দেন, ট্রাম্প এর চেয়েও বেশি আশার কথা শোনান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই করোনার টিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকতে পারে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘৩ নভেম্বরের দিকেই টিকা আসার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।’ ওই সময়ে টিকা এলে নির্বাচনে বিশেষ সুবিধা পাবেন কি না, সে সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুব বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। তবে এটা আমি নির্বাচনের জন্য করছি না। অনেকের জীবন বাঁচাতে চাই।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনা মহামারি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ধাক্কা দিয়েছে। এর মধ্যেই পুনর্নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চাইছেন ট্রাম্প। স্কুল খুলে দেওয়াসহ সবকিছু স্বাভাবিক করতে তিনি চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দ্রুত টিকা আনতে গিয়ে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দিকগুলো উপেক্ষা না করার পক্ষে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত