শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সিনহা হত্যা মামলা: তদন্ত কমিটি প্রদীপের সাক্ষাতের অপেক্ষায়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। ওসি প্রদীপ এখন মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবের হেফাজতে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

২৯ আগস্ট জেলা কারাগারে ওসি প্রদীপের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিটি। ৩১ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিনহা হত্যার ঘটনা তদন্তের জন্য বিভিন্ন শ্রেণিতে ৬৮ জনের নাম তালিকাভুক্ত করে কমিটি। এরই মধ্যে কমিটি ৬৭ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া শেষ করেছে। ১৯ আগস্ট ওসি প্রদীপের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর ২৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। কিন্তু ওসি প্রদীপকে র‍্যাব সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ায় ২৩ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। পরে আবেদনের পর তদন্ত প্রতিবেদনের দাখিলের সময় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এখন ওসি প্রদীপের দ্বিতীয় দফার চার দিনের রিমান্ড শেষ হবে ২৭ আগস্ট। এরপর তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা কেবল একজন আসামি ওসি প্রদীপের সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। আগামী ২৯ তারিখ জেলা কারাগারে সেই কথা বলাটা শেষ করতে চাই। এর পরের দুই দিনের মধ্যে (৩০ ও ৩১ আগস্ট) যেকোনো এক দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব বলে আশা করছি।’

আরও ৩ সাক্ষীকে রিমান্ডে নিল র‍্যাব: সিনহা হত্যা মামলার আরও তিন আসামিকে গতকাল দুপুরে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‍্যাব। তাঁরা হলেন টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস। সিনহার বোনের মামলায় মারিশবুনিয়ার এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই তিন আসামি ৩১ জুলাই টেকনাফ থানায় পুলিশের করা সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলেন। সম্প্রতি সাত দিনের রিমান্ড শেষে এই তিন আসামি জেলা কারাগারে রয়েছেন।

জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, সকালে তিন আসামি নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াসকে কারাগার থেকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে নেওয়া হয়। এই তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। দুপুর ১২টার দিকে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ তিন আসামিকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে সিনহা হত্যা মামলার মোট ১৩ আসামির প্রত্যেকের দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলো।

এর মধ্যে চার পুলিশ সদস্য এসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও র‍্যাব এখনো তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেনি। মামলার অপর ছয় আসামি র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে। আসামিদের দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

এই ছয় আসামি হলেন সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ।

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে আটক করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রা দেবনাথকে আটক করা হয়। দুজনই এখন জামিনে মুক্ত।

এপিবিএনের তিন সদস্য ৩১ জুলাই রাতে শামলাপুর তল্লাশিচৌকির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের সিনহা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত