রবিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) মারা গেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরোত্তম সম্মানে ভূষিত করে। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

সি আর দত্ত সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনটির মহাসচিব হারুন হাবিব সি আর দত্তের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হারুন হাবিব বলেন, ‘ফ্লোরিডায় যে বাসায় তিনি থাকতেন, তিন দিন আগে সেখানকার বাথরুমে পড়ে যান। তাঁর স্বজনেরা তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তিনি কোমায় চলে যান। তাঁর আর জ্ঞান ফেরেনি। আজ সকালে তিনি মারা যান।’

জানা যায়, গত ২০ আগস্ট বাসায় বাথরুমে হঠাৎ পড়ে যান সিআর দত্ত। এতে তার পা ভেঙে যায়। এরপর দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। পরে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে জন্ম নেয়া সি আর দত্তের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে। তার বাবার নাম উপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত এবং মায়ের নাম লাবণ্য প্রভা দত্ত। শিলং-এর ‘লাবান গভর্নমেন্ট হাইস্কুল’-এ দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে হবিগঞ্জে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন৷ হবিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ১৯৪৪ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে কলকাতার আশুতোষ কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে ছাত্রাবাসে থাকা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে খুলনার দৌলতপুর কলেজের বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে এই কলেজ থেকেই বিএসসি পাস করেন৷

সি আর দত্ত ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিছুদিন পর ‘সেকেন্ড লেফটেনেন্ট’ পদে কমিশন পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সঙ্গে যুক্ত। হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত