মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

টিকার দ্রুত অনুমোদনে সতর্ক করলেন ফাউসি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকাগুলোর জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি। গতকাল সোমবার তিনি জরুরি টিকা অনুমোদনের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অন্য টিকাগুলো তৈরির প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত টিকা অনুমোদন দিতে চায়। দুটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদনের সম্ভাবনার কথা বলছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতেই সতর্কতার কথা বলেছেন ফাউসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারী সচিব মাইকেল কাপুটো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দ্রুত টিকা অনুমোদনের প্রচেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফাউসি বলেছেন, ‘টিকা কার্যকর হওয়ার কোনো ইঙ্গিত না পেয়ে তা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি আপনি নিশ্চয়ই দেখতে চাইবেন না। যদি সময়ের আগেই টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে এর সম্ভাব্য বিপদ রয়েছে। এটি তখন অন্য টিকা প্রস্তুতকারীদের মানুষের ওপর পরীক্ষার কাজটি কঠিন করে তুলবে।’

মার্কিন করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের এ সদস্য আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি টিকা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলো টিকা পরীক্ষার পাশাপাশি দ্রুত উৎপাদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যদি কোনো টিকা কার্যকর ও নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা দ্রুততার সঙ্গে বিলি করা যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ টিকা পাওয়া যাবে। তবে টিকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা আসার জন্য ট্রাম্প যে সময়ের কথা বলছেন, তা বাস্তবসম্মত নয়। তবে ট্রাম্প জোর গলাতেই বলে যাচ্ছেন, এ বছর শেষ হওয়ার অনেক আগেই টিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে।
করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের ঘনিষ্ঠ ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও বলেছেন, টিকা আসার সময়সীমা একই আছে। আশা করা যাচ্ছে, এ বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতেই টিকা পাওয়া যাবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভ্যাকসিন তৈরি নিয়ে প্রশাসনিক তোড়জোড় তত বাড়ছে। একটি ভ্যাকসিন আগেভাগে বাজারে এনে বর্তমান প্রশাসন এর কৃতিত্ব নিতে চায়।

গত শনিবার ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন করোনাভাইরাসের টিকার পরীক্ষায় দেরি করছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য মানুষের কাছে যেতে অযথাই দেরি করাচ্ছে এফডিএ। তিনি এফডিএকে দ্রুত কাজ করতে বলেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভ্যাকসিন তৈরি নিয়ে প্রশাসনিক তোড়জোড় তত বাড়ছে। একটি ভ্যাকসিন আগেভাগে বাজারে এনে বর্তমান প্রশাসন এর কৃতিত্ব নিতে চায়। লক্ষ্য, আসন্ন নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা। এ অবস্থায় বিজ্ঞানীদের একটি দল শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, করোনার টিকা আসার সময় নিয়ে হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, ট্রাম্প এর চেয়েও বেশি আশার কথা শুনিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই করোনার টিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকতে পারে বলে আশ্বস্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের আগেই টিকা হাতে থাকা সম্ভব।

রাশিয়ার পর দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার জরুরি প্রয়োগের বিষয়টিকে অনুমোদন দিয়েছে চীন। করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের ওপরই শুধু এই টিকা ব্যবহার করা যাবে। চীনের করোনা টিকা উন্নয়ন টাস্কফোর্সের প্রধান ঝেং ঝংওয়েই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভিকে শনিবার বলেন, ‘টিকার প্রয়োগ নিয়ে আমরা কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছি, যার মধ্যে আছে চিকিৎসার সম্মতিপত্র, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা থেকে উত্তরণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি বিষয়, যাতে এটা নিশ্চিত করা যায় যে টিকার জরুরি প্রয়োগ সুনিয়ন্ত্রণ ও তদারকির মধ্য দিয়ে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, গত ২২ জুলাই থেকে এ জরুরি প্রয়োগ শুরু হয়েছে, যদিও মানবদেহে এই টিকার পরীক্ষার সব পর্যায় এখনো শেষ হয়নি।

এর আগে ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া কোভিড-১৯ রোগের একটি টিকার অনুমোদন দেয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, তাঁদের টিকাটি ভালোভাবে কাজ করে। যা যা দেখা দরকার ছিল, এ টিকার ক্ষেত্রে ‘তার সবই’ করা হয়েছে। তাঁর এক মেয়ের দেহেও গামালিয়া ইনস্টিটিউটের এ করোনাভাইরাস টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিল। টিকা দেওয়ার পর মেয়ের গায়ের তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছিল, তবে দ্রুতই সেটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

পুতিন ঘোষণা দিলেও রাশিয়ার এ টিকার কার্যকারিতা এবং এটি সব প্রোটোকল মেনেছে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত