শনিবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে শিগগিরই চিঠি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী বরাবর খুব শিগগিরই চিঠি দেবে তার পরিবার। যে প্রক্রিয়ায় তিনি ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি পেয়েছিলেন, সেই প্রক্রিয়ায়-ই তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন স্বজনেরা। অর্থাৎ পরিবারের পক্ষে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে তারা এও জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তৎপরতা শুরু করেনি তার পরিবার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘মূলত, প্রোপার বা অ্যাভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য নির্বাহী আদেশে বেগম খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছিল সরকার। চরম অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। তিনি (খালেদা জিয়া) তো এখনও অসুস্থ। করোনার কারণে তার প্রোপার ট্রিটমেন্ট সম্ভব হয়নি। সুতরাং সাময়িক মুক্তির মেয়াদ তো বাড়াতেই হবে। আমি যতদূর জানি, মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি। শিগগিরই হয়তো করা হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, ‘আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে দল সম্পৃক্ত হবে না।’

বিদেশে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র এবং আইনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয় খালেদা জিয়ার পরিবার। প্যারোলের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা না হলেও ওই চিঠিতে ‘মানবিক কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়। অবশ্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলেও পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

শামীম ইস্কান্দার ওই চিঠিতে আরও লেখেন ‘মারাত্মক অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইছি। সেজন্য তার মুক্তি প্রয়োজন। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মানবিক কারণে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।’

‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। দুদিন আগেই আমরা পরিবারের সদস্যরা যখন হাসপাতালে তাকে দেখলাম তিনি উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না। তার বাঁ হাত আগেই বেঁকে গেছে। ডান হাতও বেঁকে গেছে প্রায়। তার হাঁটুতে এবং কোমরে ব্যথা। খেতে পারছেন না। অবস্থা খারাপ থেকে খারাপ হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড সঠিক তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন দিতে পারছে না’— লেখা হয় ওই চিঠিতে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড আদালতে যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেটি এবং আগের দুটি মেডিকেল প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও পরিবারের সদস্যদের চিঠিতে তুলে ধরা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠি সম্পর্কে সে সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘তারা (খালেদা জিয়ার পরিবার) চিঠিতে লিখেছেন, সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্বাহী আদেশে লন্ডনের আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।’

পরিবারের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নভেল করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতে গত ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির আগের দিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বিদেশে না যাওয়া এবং গুলশানের বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণের শর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মুক্তির পর গত পাঁচ মাস গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসক, নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং দুই ঈদে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যরা ছাড়া কেউ দেখা সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পর্যন্ত পাঁচবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিবারই বেরিয়ে এসে বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শরীর অত্যন্ত খারাপ। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।’

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনও একই কথা বলেছেন। গত জুলাই মাসে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘দেশের সব চেয়ে বড় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) এবং বড় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণের পরও যিনি ভালো হননি, তিনি বাসায় থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন, এমনটি আশা করি কীভাবে?’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিবারের পক্ষ থেকে এবার যে চিঠি দেওয়া হবে, সেখানে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সরকারের সম্মতি পেলে এবং করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি উন্নতি হলে নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ খালেদা জিয়াকে লন্ডনে পাঠাতে চায় তার পরিবার। অবশ্য মার্চের চিঠিতেও লন্ডনের আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল খালেদার পরিবার। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখেনি সরকার। বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণের শর্তে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সেই মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত