সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মেজর সিনহা হত্যা: এপিবিএনের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ নিয়ে এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আবদুল্লাহ। ঘটনার দিন এই তিনজনই এপিবিএনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত এ তিন জনেরও ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে। এ নিয়ে সিনহা হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলো।’

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মেজর (অব.) সিনহা হত্যার ঘটনায় ৩১ আগস্ট চেকপোস্টে দায়িত্বপালনকারী ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তারাও জড়িত বলে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে তদন্ত দল। তাই মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হবে।

এর আগে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা সাতজন হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়ার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আইয়াস।

৩ জুলাই সিনহার সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাসকিন কক্সবাজার যান ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিষবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় হয় টেকনাফ থানায়। এই মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলার আসামি করা হয় সিফাতকে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় শিপ্রা দেবনাথকে।

৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন বাদী হয়ে একই আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত