শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফাহিম হত্যায় হ্যাসপিলকে ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির করা হবে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ হত্যার ঘটনায় আটক টাইরেস ডেঁভো হ্যাসপিলকে নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করানো হয়নি। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১৭ আগস্ট তাঁকে আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট হ্যাসপিলকে নিউইয়র্ক ক্রিমিনাল কোর্টে (পার্ট ১৯) উপস্থাপন করা হবে। হ্যাসপিলের মামলায় লিগ্যাল এইডের আইনজীবী হিসেবে মিচেল, নেভিল অনিল ডেক্সটারের নাম লেখা আছে।

করোনা-পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের আদালত পুরোদমে কাজ করছে না এখনো। অনেক মামলার সময়সূচি সমন্বয় করে মামলার কার্যক্রম চালু আছে। ঠিক কী কারণে হ্যাসপিলকে আদালতের হাজির করানোর তারিখ ১৭ থেকে ১৯ আগস্ট করা হয়েছে, আদালতের রেকর্ডে এ নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ১৩ জুলাই ফাহিম ম্যানহাটনে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্টে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ফাহিম যখন অ্যাপার্টমেন্টের লিফটে উঠছিলেন, তখন তাঁর পিছু নিয়ে দ্রুত লিফটে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। তদন্তকারী ব্যক্তিরা বলছেন, ওই ব্যক্তিই টাইরেস হ্যাসপিল। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগে ইলেকট্রিক করাত ছিল বলে তাঁদের ধারণা। লিফটের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ফাহিম ওই ব্যক্তিকে কিছু জিজ্ঞেস করছেন। এরপর দুজনের মধ্যে কিছু আলাপ হতেও দেখা গেছে। পরে ফাহিমকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেখাচ্ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ফাহিম লিফট থেকে ঘরে পা রাখতেই মাস্ক পরিহিত ওই ব্যক্তি ফাহিমকে আক্রমণ করেন। পেছন থেকে আঘাতের পর ফাহিম লিফট থেকে বের হতেই সামনের দিকে পড়ে যান। এরপর লিফটের দরজা বন্ধ হওয়ায় সিসিটিভির ফুটেজ আর রেকর্ড হয়নি।

তদন্তকারী ব্যক্তিরা মনে করেন, এরপরই টাইরেস ছুরিকাঘাত করে ফাহিমকে হত্যা করেন। পরে তিনি কার সার্ভিস ডেকে হোম ডিপোয় যান। কার সার্ভিসের সেই পেমেন্ট তিনি পরিশোধ করেন ফাহিমের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। হোম ডিপো থেকে কিছু ক্লিনিং আইটেমও কেনেন টাইরেস।

ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লিফটের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, পরদিন ১৪ জুলাই দুপুরে আবার ফিরে আসেন টাইরেস। সঙ্গে ছিল রিচার্জেবল ভ্যাকুয়াম। পুলিশের মতে, এটি হত্যার চিহ্ন মুছে ফেলতে ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৪ জুলাই দুপুরে ইলেকট্রিক করাত ব্যবহার করে ফাহিমের দেহ খণ্ড খণ্ড করেন হ্যাসপিল। এ সময় ফাহিমের বোন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা নক করেন। তিনি পুলিশকে ‘ওয়েলফেয়ার চেকের’ (নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশীর অপমৃত্যু হয়েছে, এ রকম আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাওয়া) অনুরোধ জানান। তবে পুলিশ আসার আগেই ভবনের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে টাইরেস পালিয়ে যান। ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের সূত্র ধরেই ১৭ জুলাই প্রায় এক মাইল দূরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামিন নাকচ করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

১৭ আগস্ট আবার আদালতে হাজির করার কথা ছিল হ্যাসপিলকে। হ্যাসপিল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে হ্যাসপিল নীরব থেকেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকেও এ মামলা নিয়ে আর নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহর ব্যক্তগত সহকারী হিসেবে কাজ করলেও হ্যাসপিল তাঁর কোম্পানিতে তালিকাভুক্ত কোনো কর্মচারী ছিলেন না। পুলিশ এর মধ্যে জানিয়েছে, ৯০ হাজার ডলার ধার নিয়েছিলেন হ্যাসপিল। ধারের অর্থ কিস্তিতে ফেরত দেওয়ার শর্তেও রাজি হয়েছিলেন ফাহিম সালেহ। এ অর্থ না দেওয়ার জন্যই হ্যাসপিল ফাহিম সালেহকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশ মনে করছে।

হত্যাকাণ্ডের পর হ্যাসপিলকে পার্টি মুডে দেখা গেছে। এর মধ্যে তাঁর একজন মেয়ে বন্ধু সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, হ্যাসপিল এমন করার লোক নয়। একটা মাছিও মেরে ফেলার লোক নন তিনি।

গ্রেপ্তারের পর হ্যাসপিলের আইনজীবী বলেছিলেন, এ মামলা দীর্ঘ হবে। যা শোনা যাচ্ছে, তাঁর চেয়েও বেশি কিছু আছে বলে আইনজীবী ইঙ্গিত দিয়ে জনগণকে মন খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর তাঁর বোন রুবী সালেহ ১৩ আগস্ট আবেগঘন এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ভিডিও বার্তায় রুবী সালেহ বলেছেন, ভাইয়ের হত্যার বিচার হওয়ার জন্য তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত