রবিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ট্রাম্পকে একহাত নিলেন মিশেল ওবামা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যতটা সম্ভব সৎ ও পরিষ্কার করে বলার চেষ্টা করছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের দেশের জন্য ভুল প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাজ করার জন্য, নিজেকে প্রমাণ করার যথেষ্ট সময় পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্প এমন কোনো ব্যক্তি নন, যাঁকে আমাদের প্রয়োজন। তিনি তাঁর সময়কে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

১৭ আগস্ট থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির চার দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন শুরু হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে ভার্চ্যুয়াল এ সম্মেলনের শুরুর দিনেই সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা তাঁর বক্তব্যে এভাবে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন।

আমেরিকার ইতিহাসে সম্ভবত মিশেল ওবামাই কোনো সাবেক ফার্স্ট লেডি, যিনি ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমালোচনা করে বক্তব্য দিলেন। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টরাও সাধারণত কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে কথা বলেন না। আর ফার্স্ট লেডিরা সব সময় রাজনৈতিক বক্তব্য এড়িয়ে চলেন।

অভিনেত্রী ও কনভেনশনের সঞ্চালক ইভা লরেঞ্জিয়া ‘ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা’র ঘোষণা দিয়ে শুরু করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় ভার্চ্যুয়াল সম্মেলন। প্রথম দিনের থিম ঘোষণা করা হয় ‘উই দ্য পিপলস’। শুরুর দিনের সম্মেলনে করোনাভাইরাসে বাবাকে হারানো এক কন্যা বলেন, ‘আমার বাবা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, আর তাঁকে বিশ্বাস করেই বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমি অবশ্যই জো বাইডেনকে ভোট দেব।’

ডেমোক্রেটিক পার্টিতে বাইডেনের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ‘আমরা নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছি। আমাদের নজিরবিহীনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে। গণতন্ত্র এবং শালীনতার সুরক্ষায় আমাদের লড়াই করতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে লোভ ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে।’

স্যান্ডার্স নিজের সমর্থকদের বাইডেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোম যখন আগুনে পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল, আর ট্রাম্প গলফ খেলছেন। ট্রাম্প শুধু গণতন্ত্রের জন্যই হুমকি নন, বিজ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি আমাদের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।’

সম্মেলনে নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস তখনই সংক্রমিত হয়, যখন শরীর দুর্বল থাকে এবং প্রতিরোধ করতে পারে না। কয়েক বছর ধরে আমেরিকার প্রশাসন দুর্বলতর হয়েছে, বিভক্তি চরমে পৌঁছেছে। মহামারিকালীন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের নেতৃত্ব প্রয়োজন, যে নেতৃত্ব আমাদের ঐক্যবদ্ধ করবে, বিভক্ত নয়। আর সেটি জো বাইডেনই করতে পারেন।’

ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশনে জাতীয়ভাবে পরিচিত বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান বক্তব্য দেন। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নিউজার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস্টি উইটম্যান এবং ওহাইওর সাবেক গভর্নর জন কেইচিস তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

২০১৬ সালে রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপ্রার্থী জন কেইচিস বলেন, ‘সারা জীবন রিপাবলিকান ছিলাম। কিন্তু দেশের প্রতি আমার দায়িত্ব এর চেয়ে বড়। স্বাভাবিক সময়ে আমি কখনোই ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে আসতাম না। কিন্তু এখন সময় স্বাভাবিক নয়।’

কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন গ্রহণ করবেন জো বাইডেন ও তাঁর রানিং মেট কামালা হ্যারিস। ১৮ আগস্ট কনভেনশনে বক্তব্য দেবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের স্ত্রী জিল বাইডেন।

সম্মেলনের প্রথম রাতে মিশেল ওবামার বক্তব্যই আলোচিত হচ্ছে বেশি। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমার বক্তব্য কোনো কোনো মহলে পাত্তা পাবে না। আমরা এমন একটি দেশে বাস করি, যেখানে বিভক্তি চরমে। আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশনে বক্তব্য দিচ্ছি। অনেকেই জানেন, আমি নিজে যা মনে করি, তা–ই বলি। আপনারা জানেন, আমি রাজনীতিকে ঘৃণা করি। আপনারা এও জানেন, আমি এ দেশটাকে নিয়ে ভাবি। আমি সন্তানদের কল্যাণে যত্নশীল।’

ডেমোক্রেটিক পার্টির অতি উদারনৈতিক ধারাকে জো বাইডেনের সমর্থনে উদ্দীপ্ত করার জন্য বার্নি স্যান্ডার্সের বক্তব্য দলের জন্য জরুরি ছিল। দলের উদারনৈতিক যুব-তরুণেরা বার্নি স্যান্ডার্সকেই তাঁদের মুখপাত্র মনে করেন। কনভেনশনে দেওয়া বক্তব্যে বার্নি স্যান্ডার্স দলের উদারনৈতিক পক্ষকেই জো বাইডেনের পক্ষে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত