বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৭৮, আহত ৪ হাজার

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত চার সহস্রাধিক। আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একসঙ্গে এত আহত মানুষের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বৈরুতের হাসপাতালগুলো। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এসব আহত মানুষকে সেবা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। অনেক হাসপাতাল স্থানের সংকুলান না হওয়ায় আর কোনো রোগী নিতে পারছে না।

গতকাল মঙ্গলবার বৈরুতের বন্দর এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দতরঙ্গের আঘাতে পুরো বৈরুত কেঁপে ওঠে। রাজধানীর বড় একটি অংশে বিভিন্ন ভবনের জানালা-দরজার কাচ ভেঙে গেছে। অনেক ভবনের ব্যালকনি ধসে পড়েছে।

বিস্ফোরণে হতাহত হওয়ার ঘটনায় লেবানন আজ থেকে তিন দিনের জাতীয় শোক পালন করছে।

বিস্ফোরক–জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের গুদামে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানাচ্ছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রাসায়নিকের মজুদ থাকা বন্দরের গুদামে প্রথম আগুন লাগার কথা জানা গেছে। লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল-জাজিরাকে বলেছেন, বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করা ছিল। তা থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে। সেন্ট্রাল বৈরুতের বাসিন্দারা আকাশে ধোঁয়ার লাল কুণ্ডুলী দেখতে পান। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে স্থানীয় ও প্রবাসীসহ সেন্ট্রাল বৈরুতের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে বলে জানাচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ বলছে, বৈরুতের বন্দর এলাকার যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে বিস্ফোরক পদার্থ সংরক্ষণের অনেক গুদাম রয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেন, ছয় বছর ধরে একটি গুদামে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অনিরাপদভাবে মজুত রাখা হয়েছিল। এটা অগ্রহণযোগ্য।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ দেশটির মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট মিশেল। তিনি জানিয়েছেন, দেশে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। জরুরি অর্থসহায়তাও ঘোষণা করেছে সরকার।

দেশটির কর্মকর্তারা গতকালই জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

লেবাননের সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিল বলেছে, যাঁরা এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী হবেন, তাঁরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, ‘বৈরুতের ওপর আমি একটি আগুনের গোলা আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেলাম। এরপর রক্তাক্ত মানুষকে চিৎকার করতে করতে ছুটতে দেখলাম।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত